ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিশাল ওষুধ পাচারচক্রের পর্দাফাঁস! সিল হলো নামী মেডিকেল, উধাও বাবা-ছেলে

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনার বিথারী এলাকায় একটি বড়সড় অবৈধ ওষুধ পাচারচক্রের হদিশ পেলেন তদন্তকারীরা। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB), রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের এক যৌথ অভিযানে বিথারী বাজারের একটি প্রতিষ্ঠিত ওষুধের দোকান ও দুটি গোপন গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ নথিবিহীন ও সন্দেহজনক ওষুধ উদ্ধার হয়েছে। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন তল্লাশি শেষে দোকান ও গোডাউনগুলি সম্পূর্ণ সিল করে দিয়েছেন আধিকারিকরা। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত ব্যবসায়ী শহিদুল মণ্ডল, যিনি এলাকায় ‘শহিদুল ডাক্তার’ নামেই পরিচিত, এবং তাঁর ছেলে লয়েড মণ্ডল পলাতক।
প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সীমান্ত সংলগ্ন বিথারী এলাকায় ওষুধের আড়ালে দীর্ঘ দিন ধরেই একটি বড় ধরনের পাচারচক্র সক্রিয় ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং গোপন খবরের ওপর ভিত্তি করে শুক্রবার সকাল থেকে আচমকাই ‘লয়েড মেডিকেল’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে হানা দেয় যৌথ তদন্তকারী দল। তল্লাশি চালানোর সময় দোকানের মূল শাখা ও তার সাথে থাকা দুটি গোডাউন থেকে পেটি পেটি এমন কিছু ওষুধ পাওয়া যায়, যার কোনো বৈধ কেনাবেচার নথি বা চালান মালিকপক্ষ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এই সমস্ত ওষুধ মূলত বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল।
এই অভিযানকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা। রাজ্য ও প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা বৃন্দাবন সরকার বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় সীমান্ত এলাকায় এমন বহু বেআইনি কাজকর্ম রমরমিয়ে চলছিল, যা সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। আজ যৌথ অভিযানে যে পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার হয়েছে, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। শহিদুল ও তাঁর ছেলে লয়েড দীর্ঘদিন ধরে এই জাল ও অবৈধ ওষুধের ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির আমলে সীমান্তে এই ধরনের কোনো অবৈধ কারবার আর বরদাস্ত করা হবে না।”
অভিযান শেষে তদন্তকারী দল গোটা এলাকা সিল করে দেয় এবং তথ্যপ্রমাণের সন্ধানে শুরু হয় পরবর্তী পদক্ষেপ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পলাতক শহিদুল মণ্ডল ও লয়েড মণ্ডলের সন্ধানে সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগ। এই পাচারচক্রের সঙ্গে স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা আন্তঃদেশীয় কোনো বড় চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অবৈধ ওষুধের উৎস কোথায় এবং এই সামগ্রী সীমান্ত পেরিয়ে ঠিক কোথায় কোথায় পাঠানো হতো, সেই বিষয়ে বিশদ তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। এই ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্তকারীরা স্থানীয়দের কাছেও কোনো তথ্য থাকলে তা জানানোর অনুরোধ করেছেন।