ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে ‘তৃতীয় পক্ষ’ কেন নাক গলাবে? মুখ খুললেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি নিয়ে এবার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি করলেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। তার এই মন্তব্যের জেরে আবারও অস্বস্তিতে পড়েছে আমেরিকা এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাক বিদেশমন্ত্রী প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য আমেরিকা বারবার চেষ্টা করলেও ভারত তাতে রাজি হয়নি।
পাক বিদেশমন্ত্রীর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি
পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার বলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার জন্য অনুরোধ করেছিল। কিন্তু মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাকিস্তানকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, নয়াদিল্লি এই বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিরোধী। ভারত সবসময়ই এই ধরনের বিষয়গুলোকে নিজেদের দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে দেখে এসেছে। এই কথা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন পাক মন্ত্রী।
ভারতের অবস্থান
পাক বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর ভারতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে গেল। ভারতের বিরোধী দলগুলো যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়নি। এবার পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীর কথায় সেটাই প্রমাণিত হলো।
দার আরও বলেন, “আমরা তৃতীয় পক্ষের জড়িত থাকার বিষয়ে আপত্তি করি না, তবে ভারত স্পষ্টভাবে বলে আসছে- এটি একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়। আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় কোনও আপত্তি নেই। তবে আলোচনা ব্যাপক হতে হবে। আগেও আমরা সন্ত্রাসবাদ, বাণিজ্য, অর্থনীতি, জম্মু ও কাশ্মীরের মতো বিষয়ে আলোচনা করেছি।”
যুদ্ধবিরতির জন্য ওয়াশিংটন এর আগেও মে মাসে প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ২৫ জুলাই মার্কিন বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দারকে জানানো হয় যে, ভারত এই প্রস্তাবে সম্মত হয়নি।
পাকিস্তানের অবস্থান
বর্তমানে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার অবস্থা কেমন, সে বিষয়ে দার বলেন, “ভারত বলেছে এটি একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়। আমরা কোনও কিছুর জন্য ভিক্ষা করছি না। আমরা একটি শান্তিপ্রিয় দেশ, আমরা বিশ্বাস করি যে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার পথ; তবে আলোচনার জন্য দুজনের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। ভারত যদি সাড়া দেয় তবে পাকিস্তান এখনও আলোচনায় অংশ নিতে ইচ্ছুক।”