২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং বাংলাদেশের উদীয়মান রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ (NCP)-র শীর্ষ নেতা সারজিস আলমের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভারতের ভিসা নিয়ে এ দেশে এসে নিজের বাবার চিকিৎসা করানোর কয়েক দিনের মধ্যেই ফের ভারত বিরোধী অবস্থানে সরব হলেন এই তরুণ নেতা। জনসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর সরাসরি আক্রমণ এবং ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে এখন উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহল।
ঠিক কী বলেছেন সারজিস আলম?
সম্প্রতি একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সারজিস আলম বিজেপি শাসিত ভারত সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান ভারত সরকার তথা বিজেপি ‘মুসলিম বিরোধী’ রাজনীতি করছে। তিনি আরও কঠোর সুরে বলেন যে, যে দেশ শোষণের মানসিকতা নিয়ে বন্ধুত্ব করতে চায়, সেই দেশের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়। তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই বিতর্কের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।
চিকিৎসা ভারতে, ঘৃণা দেশে?
এই বিতর্কের মূল কারণ সারজিসের সাম্প্রতিক ভারত সফর। উল্লেখ্য, বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে সারজিস আলম ভারতের ভিসা নিয়ে এ দেশে এসেছিলেন। ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে বাবার চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফেরার পর তাঁর এই ভোলবদলকেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না নেটিজেনদের বড় একটি অংশ। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যে ভারত সংকটের সময় ভিসা দিয়ে তাঁর বাবার প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করল, সেই দেশের বিরুদ্ধেই তিনি কীভাবে বিষোদ্গার করতে পারেন? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি চরম ‘দ্বিচারিতা’র বহিঃপ্রকাশ।
কে এই সারজিস আলম?
হাসিনা সরকারের পতনের নেপথ্যে যে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল, তার অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন সারজিস। বর্তমানে তিনি এনসিপি-র উত্তর অঞ্চলের প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগেও একাধিকবার ভারত বিরোধী মন্তব্যের কারণে সংবাদ শিরোনামে এসেছেন তিনি। তবে এবারের বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ তাঁর পরিবারের ওপর ভারতের মানবিক সাহায্যের বিষয়টি জড়িত ছিল।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও কূটনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে ভারত-বিরোধী হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ভারতে বিজেপির জয়ের পর থেকেই বাংলাদেশের কট্টরপন্থী ও ইসলামপন্থী নেতারা ভারত ইস্যুকে জনসমর্থন পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। সারজিসের এই মন্তব্য সেই মেরুকরণকেই আরও উস্কে দিয়েছে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য দীর্ঘদিনের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নেটিজেনদের একাংশ এই ঘটনাকে ‘অকৃতজ্ঞতা’ হিসেবে দেখলেও, তাঁর কট্টর সমর্থকরা একে ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লড়াই’ বলে দাবি করছেন। সব মিলিয়ে সারজিস আলমকে ঘিরে উত্তপ্ত দুই বাংলার রাজনীতি।





