ভারতের রেল মানচিত্রে ইতিহাস! শুক্রবারই প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের যাত্রা শুরু, জেনে নিন বিস্তারিত

ভারতবর্ষের পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৭ জুলাই, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের শুভ উদ্বোধন করবেন। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে এটি ভারতের এক মাইলফলক পদক্ষেপ।
কোন পথে চলবে এই ট্রেন? হরিয়ানার জিন্দ (Jind) থেকে সোনিপত (Sonipat) পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে চলবে এই অত্যাধুনিক ট্রেন। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ট্রেনটি এই রুটের ১২টি স্টেশনে থামবে—যার মধ্যে রয়েছে জিন্দ সিটি, পান্ডু পিন্ডারা, ললিত খেরা, ভাম্ভেবা, ইসাপুর খেরি, ভুতানা, খান্দারাই, গোহানা, রাবরা, লাট, মোহনা এবং বারওয়াসনি।
ট্রেনের প্রযুক্তি ও বিশেষত্ব: এই ট্রেনের ফুয়েল সেল প্রোপালসেন সিস্টেমে ১২০০ কিলোওয়াট-আওয়ার ক্ষমতার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে এটি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে ইঞ্জিনকে সচল রাখে। সবথেকে বড় সুবিধা হলো, এই ট্রেন থেকে কোনো ক্ষতিকারক ধোঁয়া নির্গত হয় না, বরং উপজাত হিসেবে শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প তৈরি হয়, যা পরিবেশের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
গতি ও যাত্রী সক্ষমতা:
ট্রেন নম্বর: ৭৪-০১০ / ৭৪-০০৯।
সক্ষমতা: ট্রেনটিতে ৬৮২টি বসার আসন রয়েছে, তবে মোট প্রায় ২,৬০০ যাত্রী ভ্রমণের সুবিধা পাওয়া যাবে।
গতি: ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার হলেও, নিরাপত্তার খাতিরে প্রাথমিকভাবে এটি ঘণ্টায় ৭৫ কিমি গতিতে চলাচল করবে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনেই তৈরি করা হয়েছে এই ট্রেনের হাইড্রোজেন স্টোরেজ ট্যাঙ্ক। জরুরি প্রোটোকলগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে। জার্মানিতে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের পর এখন জাপান, চিন, আমেরিকা ও ইতালির মতো উন্নত দেশগুলোও হাইড্রোজেন ট্রেনের ওপর ভরসা রাখছে। সেই তালিকায় এবার গর্বের সঙ্গে নাম লেখালো ভারত।
বর্তমানে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে হরিয়ানার রুটে চললেও, ভবিষ্যতে ভারতের অন্যান্য নন-ইলেক্ট্রিফায়েড বা বিদ্যুৎহীন রুটেও এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে রেলমন্ত্রকের। এই উদ্যোগ ভারতের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।