ভারতের চাভাহার বন্দরে মার্কিন হানা! এশিয়ায় নতুন যুদ্ধের দামামা?

ইরানের কৌশলগত চাভাহার বন্দরে মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকেই নতুন করে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম আমেরিকার এমন পদক্ষেপে একদিকে যেমন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তেমনই ভারতের অন্যতম বৃহত্তম কৌশলগত বিনিয়োগও এখন সংকটের মুখে।

পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর জন্য চাভাহার বন্দর ভারতের কাছে শুধু একটি বাণিজ্যিক পথ নয়, এটি ভারতের ভূ-কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দু। ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর (INSTC)-এর মাধ্যমে এই বন্দর ভারত, ইরান ও রাশিয়ার বাণিজ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। এছাড়া, পাকিস্তানের গবাদর বন্দরে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির মোকাবিলায় চাভাহার ভারতের একটি শক্তিশালী জবাব। हालেই ভারত সরকার এবং ইরানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই বন্দরের অপারেশন নিয়ে বড় চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা এমন সব সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যা ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছিল। অন্যদিকে, ইরান এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। বন্দর এলাকায় বিস্ফোরণ ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর ভারতের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন ভারত সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এই সামরিক অস্থিরতার মাঝেও নিজস্ব প্রকল্পের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং চীন-পাকিস্তান অক্ষের প্রভাব মোকাবিলায় এই করিডোরকে সচল রাখা। সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সাউথ ব্লক।