ভারতের এই শহরে পা রাখলেই অবাক হবেন! ব্রিটিশ ভ্লগারের চোখে ধরা পড়ল এমন কী?

ব্রিটেনের বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় ট্রাভেল ভ্লগার জ্যাক হিটন সম্প্রতি ভারত সফরে এসে এক অভিনব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ভারতের অন্যান্য ব্যস্ত এবং জনবহুল বড় বড় শহরের পরিচিত কোলাহল ও ভিড়ভাট্টা ছেড়ে তিনি যখন দেশটির অন্যতম পরিকল্পিত শহর চণ্ডীগড়ে এসে পৌঁছান, তখন এখানকার শান্ত পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে তিনি পুরোপুরি বাকরুদ্ধ ও বিস্মিত হয়ে যান। ভারতের অন্যান্য অংশের দৈনন্দিন ব্যস্ততা এবং চরম বিশৃঙ্খলার সঙ্গে চণ্ডীগড়ের এই সুশৃঙ্খল পরিবেশের আকাশ-পাতাল তফাত দেখে তাঁর অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে আসে যে, এই শহরটি ভারতের বাকি সমস্ত প্রান্ত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও অনন্য।

জ্যাক হিটনের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, চণ্ডীগড়ের এই অবিশ্বাস্য সৌন্দর্যের মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এর অসাধারণ নগর পরিকল্পনার মধ্যে। বিশ্বখ্যাত সুইস-ফরাসি স্থপতি ও রূপকার লে করবুসিয়ে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে গ্রিড সিস্টেমে এই আধুনিক শহরটি নকশা করেছিলেন। শহরের বুক চিরে চলে যাওয়া সুপ্রশস্ত পিচঢালা সড়ক, রাস্তার দুপাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা অরণ্যের মতো সবুজ এবং চারদিকে ছড়িয়ে থাকা সাজানো পার্ক ও উদ্যান একে ভারতের অন্য যেকোনো সাধারণ মেট্রোপলিটন শহর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ভারতের অন্যান্য পরিচিত শহরের চিরচেনা দৌড়ঝাঁপ ও অসহ্য ট্রাফিক জ্যাম দেখার পর চণ্ডীগড়ের কোলে এসে জ্যাকের মনে এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি ও স্বস্তি নেমে আসে। রসিকতার সুরে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই শহরের সবকিছু যেন প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশিই সুসংগঠিত ও নিখুঁত। তাঁর ব্যক্তিগত মতানুসারে, সাধারণ মানুষের বসবাস এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জীবন কাটানোর দিক থেকে বিচার করলে, চণ্ডীগড় বর্তমানে সমগ্র ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সর্বাধিক আরামদায়ক শহরগুলির মধ্যে একটি।

পাশাপাশি, এই শহরের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে, চণ্ডীগড় একই সঙ্গে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা—এই দুই সমৃদ্ধ রাজ্যের যৌথ রাজধানী এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। বর্তমান সময়ে এই শহরের চাহিদা ও কদর এতটাই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে যে, অভিজাত ও ভালো লোকেশনের মধ্যে অবস্থিত আলিশান বাড়িগুলির বাজারদর ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৮ কোটি ভারতীয় টাকার অঙ্কও ছাড়িয়ে গেছে।

ইতিমধ্যে জ্যাকের এই ভ্রমণ সংক্রান্ত ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তুলেছে এবং তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। এই ভিডিওর কমেন্ট বক্সে চণ্ডীগড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের গর্ব ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে বেশ কিছু মিষ্টি মন্তব্য করেছেন। শহরের এক গর্বিত বাসিন্দা নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, “চণ্ডীগড়ের মতো একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল শহরে জন্মগ্রহণ করতে পেরে আমি ভীষণ গর্বিত। যখনই কাজের সূত্রে অন্য কোনো মেট্রো সিটিতে যাই, সেখানকার তীব্র ভিড় এবং বিশৃঙ্খল ট্রাফিক দেখে আমার মাথা ধরে যায়। সত্যি বলতে, চণ্ডীগড় আমাদের সবসময় আরামে থাকার এক ভীষণ বাজে অভ্যাসে অভ্যস্ত করে তুলেছে!”