ভাঙড়ে কেন জোড়া EVM? রাজ্যের অন্য সব জায়গায় ১টি হলেও শওকত-নওসাদের গড়ে কেন ২টো যন্ত্র?

বাংলার রাজনীতিতে ভাঙড় মানেই টানটান উত্তেজনা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে কোনো সংঘাত নয়, বরং ভোটের ‘যন্ত্র’ বা ইভিএম। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে দুটি করে ব্যালট ইউনিট (EVM) ব্যবহার করা হচ্ছে।

কেন এই বিশেষ ব্যবস্থা? সাধারণত একটি ইভিএম বা ব্যালট ইউনিটে সর্বাধিক ১৫ জন প্রার্থী এবং ১টি ‘নোটা’ (NOTA) বাটন, অর্থাৎ মোট ১৬টি বোতাম থাকে। ভাঙড়ের ক্ষেত্রে দুটি ইভিএম রাখার প্রধান কারণগুলি হলো:

  • অত্যধিক প্রার্থীর সংখ্যা: ভাঙড় কেন্দ্রে এবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ১৫ ছাড়িয়ে গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, যদি প্রার্থীর সংখ্যা ১৫-এর বেশি হয় (নোটা সহ ১৬), তবে একটি ব্যালট ইউনিটে তাঁদের নাম রাখা সম্ভব হয় না। সে কারণেই দ্বিতীয় একটি ইভিএম মেশিন পাশাপাশি রাখা হয়েছে।

  • সহজ ভোটিং প্রক্রিয়া: ভোটাররা যাতে কোনো বিভ্রান্তি ছাড়াই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তাই দুটি যন্ত্রকে একটি কন্ট্রোল ইউনিটের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

  • হাই-ভোল্টেজ লড়াই: ভাঙড়ে এবার তৃণমূলের শওকত মোল্লা, আইএসএফ-এর নওসাদ সিদ্দিকী এবং বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নির্দল ও ছোট দলের প্রার্থী ময়দানে রয়েছেন। এই দীর্ঘ তালিকার কারণেই কমিশনের এই বাড়তি আয়োজন।

কমিশনের প্রস্তুতি: ভাঙড়ের প্রতিটি বুথে দুটি করে ইভিএম সংযোগ করার জন্য বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে পোলিং অফিসারদের। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পর্শকাতর এলাকা হওয়ায় ভাঙড়ে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ওপর বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ মন্তব্য: কেবল প্রার্থীর সংখ্যার কারণেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে কমিশন জানালেও, রাজনৈতিক মহলের মতে, ভাঙড়ের প্রতিটি ভোট এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুটি ইভিএম ব্যবহারের ফলে ভোটদানের সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে, তাই ভোটারদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভাঙড়ের এই মেগা-ফাইটে শেষ হাসি কে হাসবেন? জোড়া ইভিএম কার ভাগ্য নির্ধারণ করবে? জানতে নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy