ভরাডুবির চরম লজ্জা! ইংল্যান্ড সফর মাঝপথেই ছেড়ে দেশে ফিরতে হলো পাকিস্তানের ৭ তারকাকে!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চরম ব্যর্থতা এবং লজ্জাজনক পারফরম্যান্সের জেরে ফের একবার বিশ্বজোড়া সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। খারাপ ফর্ম থেকে শুরু করে একের পর এক বিতর্ক—কিছুই বাদ যাচ্ছে না। আর এর মাঝেই ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের কাছে চরম হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। চলমান টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই দল থেকে হঠাৎ করে সাত জন ক্রিকেটার এবং দুই জন কোচকে ব্যাগপত্র গুছিয়ে সোজা দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসন্ন তৃতীয় টেস্টে দলের স্কোয়াডে একাধিক তরুণ ক্রিকেটারের অভিষেক ঘটানোর পরিকল্পনা করা হলেও, পিসিবির এই নজিরবিহীন ও আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে এখন শোরগোল পড়ে গেছে। ইংল্যান্ড সফরটি বর্তমান পাক দলের জন্য কার্যত এক বুমেরাং ও হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে।

পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের পাশাপাশি খোদ তাদের দেশেরই একাধিক প্রাক্তন তারকা। মাইকেল ভন, ডেভিড লয়েড, মাইকেল আথারটন এবং অ্যালাস্টেয়ার কুকের মতো ক্রিকেট দুনিয়ার হেভিওয়েটরা পিসিবির এই অদূরদর্শী পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই সিরিজে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালন করা ইংল্যান্ডের একসময়ের তারকা স্পিনার ফিল টাফনেল পিসিবির এই সিদ্ধান্তকে এককথায় ‘ভয়াবহ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। টাফনেল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “সফরের মাঝপথে ক্রিকেটারদের এইভাবে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অপমানজনক। খেলোয়াড়দের কেরিয়ারে এমন মানসিক আঘাত বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অতীতে আমাদের সময় নানা রকম সমালোচনা হয়েছে, কিন্তু মাঝপথে স্কোয়াড ভেঙে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা সত্যিই নজিরবিহীন।”

সাধারণত চোট-আঘাত বা শৃঙ্খলাভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগের কারণে সফরের মাঝখানে এক বা দু’জনকে দেশে ফেরানোর নজির অতীতে থাকলেও, শুধুমাত্র বাজে পারফরম্যান্সের জেরে একসঙ্গে সাত জন ক্রিকেটার ও দুই কোচকে বরখাস্ত করার মতো ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরল। এই প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ভন কটাক্ষ করে বলেছেন, “সাধারণত শৃঙ্খলাভঙ্গ বা পানশালায় গন্ডগোলের মতো ভুলের জন্য খেলোয়াড়রা শাস্তি পান, কিন্তু এখানে শুধু সাধারণমানের ক্রিকেট খেলার জন্য ক্রিকেটারদের মাঝপথে দল থেকে বের করে দেওয়া হলো।”

এদিকে, এই চরম অপমানের মধ্যেই পাকিস্তান দলের সদস্যদের ব্রিটিশ রাজটক কিং চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র মশকরা। স্কোয়াডের একটা বড় অংশ যখন দেশে ফেরার বিমান ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই রাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে দেখা যায় দলের বাকি সদস্যদের। এই অদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে প্যানেলিস্টরা খোঁচা দিয়ে বলেন, “ওরা তো রাজার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিল, তাই না? সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে, অথচ কিছুক্ষণ পরেই তাদের মধ্যে কয়েকজনকে সোজা দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে!” এমনকি এক ধারাভাষ্যকার মশকরা করে বলেন, “কিং চার্লি হয়তো জিজ্ঞেস করেছিলেন— তুমি কি সেই হতভাগ্য ক্রিকেটার, যে আজই বাড়ি ফিরে যাচ্ছ?” চলতি সপ্তাহের বুধবার থেকে শুরু হতে চলা সিরিজের শেষ টেস্ট ম্যাচের আগে পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্দরমহলের এই হাতাশাজনক চিত্র বিশ্ব ক্রিকেটে এখন অন্যতম বড় চর্চার বিষয়।