ভয়ঙ্কর এল নিনো বনাম পজিটিভ IOD, ভারতে কি আদৌ ভালো বৃষ্টি হবে? জানুন আসল সত্যি

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে তৈরি হওয়া ‘এল নিনো’ (El Niño) নিয়ে উদ্বেগের পারদ চড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এল নিনো ৩.৪ সূচক +০.৮১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা সরকারি সতর্কবার্তার সীমাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। কৃষিপ্রধান ভারতের সরকার ও সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এই খবর। কারণ, এল নিনোর প্রভাবে ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। তবে, এই দুর্যোগের মাঝেও একটি ‘সুখবর’ শোনাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।

এল নিনো ও বর্ষার সমীকরণ এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণায়ন। যখন এই অঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ে, তখন বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের ফলে ভারতের আকাশ থেকে মেঘ সরে যায় এবং বৃষ্টিপাত বাধাপ্রাপ্ত হয়। সাধারণত এল নিনোর সময় ভারতে বৃষ্টিপাত কম হয়, যা খরা, ফসলের ক্ষতি এবং জলের সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মৌসম ভবনও এবছর স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

আশার আলো ‘পজিটিভ IOD’ বিজ্ঞানীদের মতে, ভারতের জন্য ত্রাতা হয়ে উঠতে পারে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডায়াপোল’ (IOD)। অগাস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ভারত মহাসাগরে একটি ‘পজিটিভ IOD’ তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যাকে অনেকেই ‘ভারতীয় এল নিনো’র বিপরীত শক্তি হিসেবে দেখেন।

কীভাবে কাজ করবে এই পজিটিভ IOD?

  • পজিটিভ IOD-এর জাদু: যখন ভারত মহাসাগরের পশ্চিম অংশ (আফ্রিকার উপকূল) উষ্ণ এবং পূর্ব অংশ (ইন্দোনেশিয়ার দিক) শীতল থাকে, তখন তাকে বলা হয় পজিটিভ IOD।

  • ভারসাম্য রক্ষা: পজিটিভ IOD ভারত মহাসাগরের উপর নিম্নচাপ তৈরি করে, যা মৌসুমী বায়ুকে ভারতের দিকে আরও বেশি করে টেনে আনে।

  • স্বস্তির সময়কাল: এল নিনোর কুপ্রভাব সাধারণত জুন-জুলাই মাসে বেশি অনুভূত হয়। ঠিক সেই সময়েই, অগাস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ পজিটিভ IOD সক্রিয় হয়ে বৃষ্টির ঘাটতি মেটাতে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? এল নিনো এবং পজিটিভ IOD একে অপরের বিপরীতধর্মী প্রভাব ফেলে। এল নিনো যেখানে বৃষ্টিপাত কমিয়ে দেয়, সেখানে পজিটিভ IOD বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর থেকে আর্দ্র বাতাসকে ভারতে উড়িয়ে আনে। ফলে, মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টির ঘাটতি হলেও, বছরের শেষ দিকে পজিটিভ IOD-এর হাত ধরে সামগ্রিক বর্ষার ঘাটতি অনেকাংশে মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।

অর্থাৎ, এল নিনোর প্রবল দাপট থাকলেও, ভারত মহাসাগরের এই বিশেষ জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের বৃষ্টির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি শেষ করে দিচ্ছে না। এখন দেখার বিষয়, অগাস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে প্রকৃতি কতটা দাক্ষিণ্য দেখায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy