মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার কলকাতা পুরসভায় পা রেখেই বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পুরসভার ‘স্বচ্ছতা স্বাগত’ অভিযানের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট করলেন, কলকাতা পুরসভার বর্তমান ওয়ার্ড বিন্যাস এবং প্রশাসনিক পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। একইসঙ্গে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই কলকাতা পুরসভায় নতুন নির্বাচন সম্পন্ন করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ভাবনা: পুরসভায় দাঁড়িয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “আমি নিজে ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলর ছিলাম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যার ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। যেমন ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৯টি বুথ, আবার অনেক ওয়ার্ডে মাত্র ১৫-১৬টি বুথ। ৮২ নম্বর ওয়ার্ডটি আয়তনে বিশাল।” এই বৈষম্য দূর করতে তিনি কলকাতা পুরসভায় ‘ডিলিমিটেশন’ বা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের সুপারিশে রাজ্য নির্বাচন কমিশনই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
ছয় মাসের মধ্যে পুরভোটের বার্তা: কলকাতা পুরসভার বর্তমান স্থবিরতা কাটাতে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “কলকাতা পুরসভায় এখন একপ্রকার অচলাবস্থা চলছে। আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আইন মেনেই নতুন পুর বোর্ডের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে।” অর্থাৎ, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই শহর কলকাতায় পুরভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শাসকদলের কাউন্সিলরদের উপস্থিতি: এদিনের অনুষ্ঠানে শাসকদলের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ), অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুঁই বিশ্বাস, শশী পাঁজার মেয়ে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলেসহ বহু তৃণমূল কাউন্সিলরকে অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, দেবাশিস কুমার, মালা রায় এবং বিধায়ক জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহার মতো নেতৃত্ব। বিরোধী শিবিরের নেতা বা প্রাক্তন মেয়রের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘পুর-সংস্কারের’ বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হলে শহরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। শুভেন্দু অধিকারীর এই উদ্যোগকে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি কলকাতা পুরসভায় বিজেপি তথা নতুন সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।





