ব্লাকমেলের শিকার হয়ে খালে ঝাঁপ পুলিশ কর্মকর্তার! মৃত্যুর আগে ভিডিওতে ফাঁস করলেন কোটি টাকার চক্রের ভয়ঙ্কর সত্য

পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলার অন্তর্গত জিরা নির্বাচনী এলাকার মাখু শহর থেকে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর, মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা সমগ্র পুলিশ মহলে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পাঞ্জাব পুলিশের জরুরি সাহায্যকারী দল তথা ১১২ হেল্পলাইন গাড়িতে কর্মরত এএসআই গুরদয়াল সিং প্রতিপক্ষের লাগাতার ব্ল্যাকমেল, ভয় দেখানো এবং মানহানির চরম প্রবঞ্চনায় জর্জরিত হয়ে ফিরোজপুর ফিডার খালে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মর্মান্তিক এই পদক্ষেপ গ্রহণ করার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিজের চরম ক্ষোভ, অসহায়ত্ব ও হতাশা ব্যক্ত করে একটি অত্যন্ত আবেগঘন ও বিস্ফোরক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছিলেন, যা মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিক প্রতিবেদন ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মৃত এএসআই গুরদয়াল সিং মূলত গুরুদাসপুর জেলার বাটালা নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর স্ত্রী যখন বাটালা নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তারপর থেকেই স্থানীয় প্রতিপক্ষ ও রাজনৈতিক শত্রুরা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গভীর প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে এবং বিদ্বেষ পোষণ করতে শুরু করে। ভাইরাল হওয়া সেই চাঞ্চল্যকর ভিডিওতে এএসআই অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেছেন যে, অভিযুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাঁর ব্যক্তিগত ছবিগুলি বিকৃত করে ও অপব্যবহার করে বিভিন্ন আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করেছিল এবং সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেল করে আসছিল। শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত চক্রটি তাঁর কাছে বেআইনিভাবে ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার একটি বিরাট অঙ্কের অর্থ চাঁদা হিসেবে দাবি করেছিল।
খালে ঝাঁপ দেওয়ার ঠিক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ওই ভিডিওটিতে এএসআই গুরদয়াল সিং অত্যন্ত বেদনাভাক্রান্ত হৃদয়ে স্পষ্ট করে সাতজন কুখ্যাত অভিযুক্তের নাম প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি ভিডিওটিতে অত্যন্ত মর্মান্তিক ভাষায় বর্ণনা করেছেন কীভাবে ওই ব্যক্তিরা তাঁকে প্রতিনিয়ত মানসিক এবং সামাজিকভাবে হয়রানি করে কোণঠাসা করে তুলেছিল। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করার পরই সম্পূর্ণ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এএসআই ফিরোজপুর ফিডার খালের প্রমত্ত জলে ঝাঁপ দেন। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় থানা, উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা এবং পেশাদার ডুবুরি দলের একটি বিশাল দল অবিলম্বে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বর্তমানে নিখোঁজ পুলিশ কর্মকর্তার সন্ধানে ফিডার খালের বিভিন্ন প্রান্তে জোরকদমে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালানো হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুলিশের উচ্চপদস্থ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সুপার (ডি) মনজিৎ সিং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মৃত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর লিখিত জবানবন্দি এবং তাঁর স্বামীর মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া ভাইরাল ভিডিওটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ৩০৬ ধারা (বর্তমান ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস ১০৮) অনুযায়ী এফআইআর বা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোটা জঘন্য ঘটনার নেপথ্যে থাকা চক্রটিকে পাকড়াও করতে এবং নিখোঁজ এএসআই-এর সন্ধান পেতে পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এবং কঠোর হাতে বিষয়টি তদন্ত করে চলেছে।