ব্রাজিল-ফ্রান্সের উৎসবের মতোই জনপ্রিয় হবে দুর্গাপূজা? মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজাকে এবার আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতে বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দুর্গাপূজাকে একটি ‘গ্লোবাল ফেস্টিভ্যাল’ হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে এবং রাজ্যে বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বাড়াতে বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করছে পর্যটন দফতর। বুধবার পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই পরিকল্পনার কথা জানান রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
মন্ত্রীর পরিকল্পনায় যা রয়েছে: পর্যটনমন্ত্রী জানান, দুর্গাপূজার ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে বিশেষ প্রচার চালানো হবে। মন্ত্রীর কথায়, “আমরা চাই বিশ্বের মানুষ দুর্গাপূজা সম্পর্কে জানুক। যেমন বাঙালিরা বিদেশের জনপ্রিয় উৎসবগুলো নিয়ে খোঁজ রাখে, ঠিক তেমনই বিদেশের মাটিতে দুর্গাপূজার মহিমা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।” খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন তিনি। পুজোর কার্নিভ্যাল নিয়ে নতুন কোনো ভাবনা বা রূপরেখা তৈরি করা যায় কি না, তা নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ৫ বছরের ব্লুপ্রিন্ট: পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক ও সুসংগঠিত করতে আগামী পাঁচ বছরের একটি বিস্তৃত রোডম্যাপ তৈরি করছে রাজ্য সরকার। পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হলো:
কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার: পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি।
ব্র্যান্ডিং ও প্রচার: নথিভুক্ত সংস্থাগুলোকে সরকারি প্রচারের আওতায় আনা।
পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার: আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে তুলে ধরা।
পিপিপি মডেল: পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে পর্যটন পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন।
ইতিবাচক সাড়া: রাজ্য সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটর্স’। শিল্পের প্রতিনিধিদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পর্যটন শিল্প শুধু আধুনিকই হবে না, বরং তা বাংলার অর্থনীতিতে বড় ধরনের সুফল বয়ে আনবে। বিদেশি পর্যটকদের জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ব্র্যান্ডিং-এর এই বিশেষ ব্লুপ্রিন্ট সফল হলে দুর্গাপূজা সত্যিই বিশ্বজুড়ে বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হয়ে উঠবে।