কিস্তিমাত মেসির, বিপর্যস্ত রোনাল্ডো, ফুটবল বিশ্ব কি দেখল এক যুগের অবসান?

একদিকে ক্যানসাস সিটিতে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে টেক্সাসের হাউস্টন স্টেডিয়ামে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর চূড়ান্ত ব্যর্থতা—ফুটবল প্রেমীরা একই রাতে দেখলেন দুই মহাতারকার বিপরীতমুখী চিত্র। বুধবার ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ম্যাচে পর্তুগিজ অধিনায়ক রোনাল্ডো যেন নিজেকে খুঁজে পেতে হিমশিম খেলেন। ৪১ বছর ১৩২ দিন বয়সে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বর্ষীয়ান ফুটবলার হিসেবে মাঠে নামার রেকর্ড গড়লেও, মাঠের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।

ম্যাচটিতে রোনাল্ডোর পরিসংখ্যান যেকোনো স্ট্রাইকারের জন্যই লজ্জাজনক। ৯০ মিনিট মাঠে থেকে মাত্র ২৫টি টাচ করেছেন, গোল লক্ষ্য করে নিতে পারেননি একটিও শট। জোয়াও নেভেসের গোলে পর্তুগাল শুরুটা ভালো করলেও, ফিনিশিংয়ের অভাবে শেষ পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানে ড্র করতে হয়েছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল কঙ্গোর সঙ্গে। মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্ড সিলভা বা ভিটিনহার মতো দক্ষ প্লেমেকার থাকা সত্ত্বেও রোনাল্ডোর নিষ্প্রভ উপস্থিতি পর্তুগালের আক্রমণভাগকে করেছে দুর্বল। পরিসংখ্যান বলছে, রোনাল্ডো মাঠে থাকলে পর্তুগালের গোল করার গড় ১.৯, কিন্তু তিনি না থাকলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২.৮।

কেরিয়ারের শুরুতে উইঙ্গার হিসেবে গতি ও শারীরিক সক্ষমতা দিয়ে দাপট দেখালেও, গত কয়েক বছরে রোনাল্ডো নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডের ভূমিকায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্বকাপ এবং ইউরো মিলিয়ে শেষ ১০টি বড় ম্যাচে গোলখরায় ভুগছেন তিনি। সৌদি প্রো লিগে ক্লাব ফুটবলে ৩০ ম্যাচে ২৮ গোল করলেও, দেশের জার্সিতে সেই ধার যেন পুরোপুরি উধাও। মেসির সঙ্গে তুলনার প্রসঙ্গ উঠলে দেখা যায়, আর্জেন্টাইন মহাতারকার খেলার ধরণ সময়ের সঙ্গে বদলেছে, তিনি গোল করানোর পাশাপাশি লং রেঞ্জার শট এবং প্লে-মেকিংয়ে দলকে সাহায্য করেন। অথচ রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে সেই নমনীয়তার অভাব স্পষ্ট।

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ ৯০ মিনিট রোনাল্ডোকে মাঠে রেখেও গোল তুলে নিতে পারেননি, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা। সমালোচকদের মতে, দলের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার এখন পর্তুগালের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। মনের জোর থাকা সত্ত্বেও রোনাল্ডো এখন নিজের পুরোনো ফর্মের শুধুই ছায়া। গোল করার বা গোল করানোর সহজাত ক্ষমতা—কোনোটিতেই আর আগের সেই ধার নেই। এই ব্যর্থতা কি তবে পর্তুগালের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে? বয়সের ভারে ন্যুব্জ সিআরসেভেন কি তবে অবসরের পথে? এই প্রশ্নের উত্তর এখন কেবল সময়ের অপেক্ষায়।