“ব্যালটেই ভোট দিন, ইভিএম চাই না!’-খাতা খুলতে পারল না হাত শিবির? মোদীর কটাক্ষে তোলপাড়

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) হটিয়ে ফের ব্যালট পেপারে ভোট করানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সরব রয়েছে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা। ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলে বারবার ইভিএম বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি ৪টি রাজ্যে বিধান পরিষদের (MLC) নির্বাচনে ব্যালট পেপারেই ভোট নেওয়া হলেও কংগ্রেস একটি আসনও জিততে পারেনি! আর এই ফলাফল সামনে আসতেই হাত শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এক্স (X) হ্যান্ডেলে মোদীর কটাক্ষ:
বুধবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে কংগ্রেসকে এক হাত নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লেখেন, “উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র ও বিহার— এই চারটি বড় রাজ্যে বিধান পরিষদের ২৮টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। ভোট নেওয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ ব্যালট পেপারে। বলুন তো, কংগ্রেস ক’টা আসনে জিতেছে?”
কোথায় কোন ফল?
গত ২৩ অক্টোবর কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিধান পরিষদের মোট ২৮টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে স্নাতক ভোটার, শিক্ষক এবং স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন।
কর্ণাটক: কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এই রাজ্যেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ৩টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি।
উত্তরপ্রদেশ: ১১টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৫টিতে এবং সমাজবাদী পার্টি ৩টিতে জয়লাভ করেছে।
মহারাষ্ট্র: ৫টি আসনের ট্রেন্ড অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট ৩টিতে এবং বিরোধী এমভিএ (MVA) জোট ২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
বিহার: ৪টি আসনের ফলাফলে বিজেপি ও আরজেডি একটি করে আসন জিতেছে, পাশাপাশি প্রশান্ত কিশোরের ‘জন সুরজ পার্টি’-ও ভালো ফল করেছে।
চারটি রাজ্যের অধিকাংশ আসনেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে এনডিএ (NDA) জোট।
বিরোধীদের দাবি বনাম বিজেপির পাল্টা আক্রমণ:
বিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, ইভিএম জালিয়াতির মাধ্যমেই নির্বাচনে কারচুপি হয়। কিন্তু ব্যালট পেপারে ভোট হওয়ার পরেও কংগ্রেসের এই শোচনীয় পরাজয় সেই দাবিকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। বিজেপির দাবি, ইভিএম হোক বা ব্যালট পেপার— এদেশের সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও এনডিএ জোটের পক্ষেই রয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের সাফাই, বিধান পরিষদের এই বিশেষ নির্বাচনে রাজ্য সরকারের সার্বিক পারফরম্যান্স বা প্রকৃত জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটে না।
ব্যালট বনাম ইভিএম বিতর্কের মাঝে কংগ্রেসের এই শূন্য প্রাপ্তি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।