ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে ৫০ কোটির প্রতারণা! ইডি দফতর থেকে বেরোতেই লালবাজারের হাতে গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল

কলকাতা ও রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক! সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি (ED) দপ্তরের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরোনো মাত্রই গ্রেফতার করা হলো রাজ্যের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী তথা খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনকে। কলকাতার দুর্গাপুজো এবং ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার ‘পুজো পাস’ বা ‘টিকিট’ বিক্রির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই মামলাতেই শেষ পর্যন্ত পুলিশি অ্যাকশনের মুখোমুখি হতে হলো প্রাক্তন এই মন্ত্রীকে।

ঠিক কী অভিযোগ ছিল প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে?

কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ‘আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’-এর স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই ‘মাস আর্ট’ (Mass Art) নামে একটি সংস্থা নিজেদের ইউনেস্কোর অফিশিয়াল পার্টনার দাবি করে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তোলে বলে অভিযোগ।

  • পাস বিক্রির কোটি কোটি টাকা: অভিযোগে বলা হয়েছে, কলকাতার বিভিন্ন নামী মণ্ডপ পরিদর্শনের জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটক ও সাধারণ মানুষের কাছে ১,৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,৫০০ টাকা (এমনকি ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত) মূল্যে ভিআইপি পাস ও ‘প্রিভিউ শো’-এর টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। এভাবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়।

  • ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর: ইডি এবং কলকাতা পুলিশের অভিযোগ, ‘মাস আর্ট’-এর আড়ালে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ বেআইনিভাবে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত লাভের কাজে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

  • বৌবাজার থানায় এফআইআর: মেঘদূত ফাউন্ডেশনের কর্ণধার জয়দীপ মুখোপাধ্যায় ও সগুনা মুখোপাধ্যায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার অভিযোগে বৌবাজার থানায় ১০২ নম্বর এফআইআর দায়ের করেন।

হাইকোর্টে খারিজ আগাম জামিনের আবেদন

দায়ের হওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারি এড়াতে আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী। কিন্তু সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। অন্যদিকে ইডির কাছে জমা দেওয়া নথিতে প্রকাশ পেয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ইডির বিস্ফোরক তথ্য দাবি

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) এক বিজ্ঞপ্তিতে বড়সড় দাবি পেশ করেছে। তাদের দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সঙ্গীত সংস্থা ‘অকটেভ রেকর্ডস’ (Octave Records)-এর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল প্রায় ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। আরও দাবি করা হয় যে, রয়্যালটি হিসেবে ওই টাকার একটি বড় অংশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেও পাঠানো হয়েছিল।

বুধবার দুপুরে ইডি অফিসে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বের হতেই সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে আগে থেকে ওত পেতে থাকা কলকাতা পুলিশের স্পেশাল সেল তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং সোজা লালবাজারে নিয়ে যায়। এই গ্রেফতারির পর এখন রাজনৈতিক জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।