বিহারের পরই বাংলার টার্গেট, কীর্ণাহারে ‘রাষ্ট্রবাদী মুসলিম’ ভোট চেয়ে TMC তাড়ানোর ডাক শুভেন্দুর

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের দিকে সরাসরি নিশানা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বীরভূমের কীর্ণাহারে ‘একতা যাত্রা’ কর্মসূচি থেকে ‘রাষ্ট্রবাদী মুসলমানদের’ একজোট হওয়ার আহ্বান জানালেন তিনি। তাঁর এই কৌশল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন গুঞ্জন তৈরি করেছে—তবে কি বাংলায় ক্ষমতা দখলের জন্য বিজেপি সংখ্যালঘু ভোটকে অপরিহার্য মনে করছে?

“আব বাঙ্গাল কি বারি হ্যায়” পদযাত্রা শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আব বাঙ্গাল কি বারি হ্যায়। শিক্ষিত রাষ্ট্রবাদী মুসলিমরাও বিহারে মোদিজি-কে সমর্থন করতে এগিয়ে এসেছেন। তাই বাংলায় আওয়াজ তুলুন ‘নো ভোট টু মমতা’। এখানকার রাষ্ট্রবাদী মুসলিম যাঁরা বোমা বাঁধেন না এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁরা মোদিজি-র বিকাশবাদে যোগ দিন। একজোট হয়ে তৃণমূল তাড়ানোর সময় এসেছে।”

তিনি স্পষ্ট করেন, ভারতীয় মুসলমানদের এনআরসি (SIR-এর বদলে NRC হবে) নিয়ে চিন্তার কিছু নেই, কারণ তাঁরা ভারতীয়। তবে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাদ যাবেন।

কেষ্ট-কাজল ও মহুয়াকে কড়া আক্রমণ এদিন শুভেন্দু অধিকারীর পদযাত্রার সময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাঁকে কালো পতাকা দেখানো ও ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। জবাবে শুভেন্দু বলেন, “হাতি চলে বাজার, কুত্তে ভঁওকে হাজার।” একই সঙ্গে তিনি বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ এবং অনুব্রত মণ্ডলকে নিশানা করেন। তিনি হুঙ্কার দেন, “কেষ্ট মণ্ডল আর কাজল শেখ কি বিহারের শাহাবুদ্দিনের থেকে বড় গুন্ডা নাকি! অপেক্ষা করুন, আমি অসুখও জানি, ওষুধও জানি।”

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “মহুয়া মৈত্র ভেনিটি ব্যাগ পেয়ে প্রশ্ন করেছিল সবাই জানে। কুকুর চুরি করেছে সবাই জানে। লোকসভার পাসওয়ার্ড বিদেশে পাচার করেছে তাও সবাই জানে।” শুভেন্দুর হঠাৎ সংখ্যালঘু ভোটকে কাছে টানার এই কৌশলে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র আলোচনা।