রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে (Forex Reserve) কিছুটা ভাটা পড়েছে। ৫ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশের মোট ফরেক্স রিজার্ভ ৭১১ মিলিয়ন ডলার কমে ৬৮১.৬১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহে রিজার্ভ ৯৩৮ মিলিয়ন ডলার বেড়ে ৬৮২.৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও, এই সপ্তাহে সামগ্রিক চিত্রে সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
রিজার্ভে কেন এই হ্রাস? আরবিআই-এর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ফরেক্স রিজার্ভের মূল ভিত্তি হলো ‘ফরেন কারেন্সি অ্যাসেট’ (FCA)। আলোচ্য সপ্তাহে এই এফসিএ ২.৭০৪ বিলিয়ন ডলার কমে ৫৪৩.৪৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, এই পরিসংখ্যানে ডলারের পাশাপাশি ইউরো, পাউন্ড এবং ইয়েনের মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক মুদ্রার ওঠানামা অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা অনেক সময় রিজার্ভের পরিমাণে প্রভাব ফেলে।
স্বর্ণ ও এসডিআর-এর ভূমিকা: বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ কমলেও, ভারতের স্বর্ণভাণ্ডার বা গোল্ড রিজার্ভ বড় স্বস্তি দিয়েছে। এই সপ্তাহে স্বর্ণের মূল্য ১.৯৭ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ১১৪.৫৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতার মুখে স্বর্ণকে সবসময়ই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, যা ভারতের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর কাছে থাকা স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR)-এর মূল্যও ১৮ মিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৮.৭৬৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আইএমএফ-এ ভারতের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪.৮২৬ বিলিয়ন ডলার।
সারসংক্ষেপ: সামগ্রিকভাবে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ভিত্তি যথেষ্ট মজবুত রয়েছে। স্বর্ণ রিজার্ভ এবং এসডিআর-এর এই বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার আংশিক ঘাটতি মোকাবিলায় সাহায্য করছে, যা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।





