প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরের শাসনকালকে ‘জনকল্যাণ ও সুশাসনের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। তিনি দাবি করেছেন, দেশের জনগণ এখন আবেগ বা স্লোগানে নয়, বরং কাজের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বারবার আশীর্বাদ করছে।
কাজের নিরিখে নতুন ভারত মুখ্যমন্ত্রী ধামি বলেন, ২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪—পরপর তিনবার জয় প্রমাণ করে যে, ভারত এখন স্লোগানের রাজনীতি পেরিয়ে কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তার মতে, অতীতে কংগ্রেস আমলে অনেক প্রকল্প কেবল কাগজের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকত, কিন্তু মোদী সরকার সেই প্রকল্পগুলোকে বাস্তবের মুখ দেখিয়েছে। দুর্নীতি দূর করে ডিবিটি (DBT)-র মাধ্যমে ৪.৩১ লক্ষ কোটি টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা প্রমাণ করে।
ঐতিহাসিক সব সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী মোদী সরকারের বেশ কিছু সাহসী সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন:
অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও তিন তালাক: জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ এবং মুসলিম নারীদের অধিকার রক্ষায় তিন তালাক প্রথা বিলুপ্তি।
সাংস্কৃতিক জাগরণ: রাম মন্দির নির্মাণ এবং রাম সেতুকে সম্মান জানিয়ে জাতীয় গর্ব প্রতিষ্ঠা।
নাগরিকত্ব প্রদান: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের আশ্রয় প্রদান।
উন্নয়নের জোয়ার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধামি জানান, ২০১৪ সালে যেখানে প্রতিদিন ১১ কিমি রাস্তা তৈরি হতো, আজ সেখানে প্রতিদিন ৩৪ কিমি রাস্তা নির্মিত হচ্ছে। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে তিনি বলেন, “আজকের নতুন ভারত ঘরে ঢুকে সন্ত্রাসবাদের জবাব দেয়।” সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে বিমান হামলার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন ভারতের নতুন কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন।
উত্তরাখণ্ডের জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে উত্তরাখণ্ডে ৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। চারধাম অল ওয়েদার রোড, ঋষিকেশ-কর্ণপ্রয়াগ রেল প্রকল্প এবং কেদারনাথ-বদ্রীনাথ ধামের পুনর্নির্মাণ দেবভূমিকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এছাড়া, রাজ্যের ২.৫৪ লক্ষেরও বেশি মহিলা ‘লাখপতি দিদি’ হয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রী ধামি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ভারত শীঘ্রই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে এবং ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন দ্রুত বাস্তব রূপ পাবে। অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।





