বিহারের এনডিএ জোটের অন্দরে উপেন্দ্র কুশওয়াহার দল ‘রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা’ (RLM) এবং বিজেপির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সদ্য ঘটে যাওয়া বিধান পরিষদ নির্বাচনে এনডিএ নেতৃত্ব কুশওয়াহার ছেলে দীপক প্রকাশকে প্রার্থী না করায় বিহারের রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে।
কেন এই সংকট? নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিধানসভার সদস্য না হয়েও সর্বোচ্চ ছয় মাস মন্ত্রী পদে থাকতে পারেন। দীপক প্রকাশ বর্তমানে কোনো সদনেরই সদস্য নন, ফলে তাঁর মন্ত্রী হিসেবে টিকে থাকার সময়সীমা ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। বিজেপির দাবি, বিধান পরিষদ নির্বাচনের আগে কুশওয়াহাকে দল একীভূত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি বিজেপির টিকিটে ছেলেকে প্রার্থী করার প্রস্তাবও তিনি ফিরিয়ে দেন, কারণ এতে তাঁর দলের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার ভয় ছিল।
স্বজনপ্রীতি ও দলীয় ক্ষোভ উপেন্দ্র কুশওয়াহার বিরুদ্ধে তাঁর নিজের দলের বিধায়কদের মধ্যেই স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। দলের চার বিধায়কের মধ্যে একজন তাঁর স্ত্রী, আর মন্ত্রী হিসেবে নিজের ছেলেকে নিয়োগ করায় দলের অন্দরেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির একটি অংশের প্রশ্ন, মাত্র চারজন বিধায়ক থাকা একটি দলকে কেন একটি রাজ্যসভা এবং একটি বিধান পরিষদের আসনের সুবিধা দেওয়া হবে?
রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ বিজেপি নেতারা মনে করছেন, সম্রাট চৌধুরীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি ইতিমধ্যে কুশওয়াহা সম্প্রদায়কে উপযুক্ত রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দিয়েছে। এমতাবস্থায়, কুশওয়াহার ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখা হচ্ছে। তবে আগামী বছর রাজ্যপালের মনোনয়নের মাধ্যমে বিধান পরিষদের ১২টি আসন পূরণের সময় রয়েছে, কিন্তু সেই পর্যন্ত দীপক প্রকাশের মন্ত্রী পদ রক্ষা পাবে কি না, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে এনডিএ-তে থাকা ছাড়া উপেন্দ্র কুশওয়াহার সামনে বিকল্প পথও খুব সীমিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুশওয়াহা একদিকে দলের অস্তিত্ব রক্ষা এবং অন্যদিকে ছেলের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাঁচানোর যে কঠিন লড়াই চালাচ্ছেন, তা বিহারের এনডিএ জোটের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।





