বেপরোয়া বিএমডব্লিউ-এর বলি আমলা, অভিযুক্ত মহিলা চালক গ্রেফতার, প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ!

দিল্লিতে অর্থ মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি নভজ্যোৎ সিং-এর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে ঘাতক বিএমডব্লিউ গাড়ির মহিলা চালক গগনপ্রীত সিংকে। এই দুর্ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত গগনপ্রীতের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অভিযোগ, তিনি দুর্ঘটনাগ্রস্ত আধিকারিককে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে না গিয়ে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরের একটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, যার ফলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা যায়নি।
রহস্যময় আচরণে পুলিশের সন্দেহ
গত রবিবার দুপুরে স্ত্রী সন্দীপকে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন নভজ্যোৎ সিং। ফেরার পথে আর কে পুরমের কাছে গগনপ্রীত সিং-এর বেপরোয়া গতির বিএমডব্লিউ গাড়িটি তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা মারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, গাড়িটি উল্টে যায় এবং নভজ্যোতের মোটরসাইকেলটি একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে নভজ্যোৎ এবং তার স্ত্রী রাস্তায় ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে রাজি হন গগনপ্রীত নিজেই। কিন্তু মৃত নভজ্যোৎ সিং-এর স্ত্রী সন্দীপ অভিযোগ করেন, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও গগনপ্রীত তাদের কাছাকাছি কোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে রাজি হননি। তিনি তাদের একটি দূরবর্তী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে পৌঁছেও তাদের স্ট্রেচারে দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখা হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ওই বেসরকারি হাসপাতালটি গগনপ্রীতের পরিচিতদের। একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হাসপাতালের অন্যতম কর্ণধার গগনপ্রীতের বাবা। এর থেকে পুলিশের সন্দেহ হয় যে, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই গগনপ্রীত আহতদের সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন।
গ্রেফতার ও মামলা দায়ের
মৃতের ছেলে পরবর্তীতে তার মাকে দ্বারকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করালেও, নভজ্যোৎ সিং-এর শেষ রক্ষা হয়নি। রবিবার রাতে নভজ্যোতের স্ত্রী সন্দীপের অভিযোগের ভিত্তিতে ৩৮ বছর বয়সী গগনপ্রীত সিং-কে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা এবং অনিচ্ছাকৃত খুনের মতো একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার বিষয়টি কতটা প্রমাণিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।