বেকারদের জন্য বড় সুখবর! মেদিনীপুরে চাকরির দরজা খুলল PACE অ্যাপ, ১৫ অগস্টের আগেই নিয়োগ

পশ্চিম মেদিনীপুরের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এক নতুন আশার আলো নিয়ে এল ‘PACE’ অ্যাপ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনে সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যাপটির উদ্বোধন করলেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে কর্মসংস্থান নিয়ে যে ক্ষোভ ও হতাশা ছিল, তা দূর করতেই রাজ্য সরকারের এই অভিনব উদ্যোগ। সরকারের লক্ষ্য, দুর্নীতির পথ এড়িয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘PACE’ অ্যাপটি ডাউনলোড করলেই মেদিনীপুরের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা ও নামী কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বর্তমানে ১৫টি স্বনামধন্য কোম্পানির সঙ্গে জেলা পুলিশের টাই-আপ করা হয়েছে। মেদিনীপুর শহর এবং জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই সুযোগগুলি পাওয়ার জন্য গত সোমবার থেকেই অ্যাপের মাধ্যমে ফর্ম ফিলাপের কাজ শুরু হয়েছে। পুরো জুলাই মাস জুড়ে চলবে এই আবেদন প্রক্রিয়া। জেলা পুলিশ সুপারের মতে, এই অ্যাপের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো দালালচক্র বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ থাকবে না। দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে রাজ্যের বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য। সেই লক্ষ্যেই আমরা এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছি। আমাদের প্রাথমিক টার্গেট হলো ১৫ অগস্টের আগে অন্তত এক হাজার যোগ্য যুবক-যুবতীকে চাকরি প্রদান করা।” তিনি আরও বলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। যোগ্য প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র বা অফার লেটার তুলে দেওয়ার জন্য ১৫ অগস্টের আগে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে জেলাশাসক, স্থানীয় বিধায়ক এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা। অরিজিৎ দাস নামে এক চাকরিপ্রার্থী জানান, “চাকরির সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ানোর সময় এই ধরনের ডিজিটাল উদ্যোগ আমাদের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ।” আরেক প্রার্থী সোমা সরকার বলেন, “অ্যাপের মাধ্যমে আবেদনের সুবিধা থাকায় দালালদের দৌরাত্ম্য কমবে। পুজোর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কর্মসংস্থানমুখী পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই।”

পুলিশের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র কর্মসংস্থানের সুযোগই তৈরি করছে না, বরং সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরানোর এক সাহসী উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক নজরদারিতে ‘স্বাধীনতার আগেই বেকারদের স্বাধীন করার’ এই ডাক মেদিনীপুর জেলার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মনে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে। আগামী ১৫ অগস্টের মধ্যে ১,০০০ জনকে নিয়োগের যে লক্ষ্য পুলিশ প্রশাসন নিয়েছে, তা সফল হলে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও এই মডেল চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।