বেআইনি চিকিৎসা শিবির ও জালিয়াতির অভিযোগ! আইনি জালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, চাঞ্চল্যকর মামলা

রাজনীতির আঙিনায় ফের বড়সড় আইনি বিপর্যয়ের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার থানায় একটি গুরুতর মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, অনুমোদনহীন চিকিৎসকদের নিয়ে বেআইনিভাবে স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির মতো মারাত্মক অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে এই মামলায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডায়মন্ড হারবার এলাকায় আয়োজিত একটি চিকিৎসা শিবিরকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বা তাঁর নামে যে স্বাস্থ্যশিবিরটি পরিচালিত হচ্ছিল, সেখানে চিকিৎসকদের যে তালিকা ছিল, তাঁদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নেই। মেডিকেল প্র্যাকটিস করার জন্য যে আইনি নথিপত্র বা ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক, তা ওই চিকিৎসকদের অনেকেরই নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের অনুমোদনহীন চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্যশিবির চালিয়ে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণা ও জালিয়াতি করা হয়েছে বলে দাবি করছেন অভিযোগকারীরা।
এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে ডায়মন্ড হারবার থানায় একাধিক কড়া ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেবল সাধারণ প্রতারণার ধারাই নয়, বরং ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্ট্যাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট’ (West Bengal Clinical Establishment Act) এবং ‘ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিক্স’ (Drug and Cosmetics) আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই আইনগুলি চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ওষুধের গুণমান নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অনুমোদনহীন শিবিরের মাধ্যমে চিকিৎসার নামে যেভাবে রোগীদের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া হয়েছে, তা এই মামলার অন্যতম প্রধান দিক বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, জনস্বার্থের নাম করে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি প্রায়শই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে চিকিৎসার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে জালিয়াতি বা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি এখন আইনি মোড় নিয়েছে। এই শিবিরে কতজন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, তাঁদের শারীরিক অবস্থা কেমন, এবং ওই অনুমোদনহীন চিকিৎসকরা রোগীদের কী ধরনের ওষুধ বা প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন, তা তদন্তের গভীর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই মামলা দায়েরের পর তৃণমূল নেতৃত্ব বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে সরব হতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর। চিকিৎসকদের নাম ও তাঁদের ডিগ্রির তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অমান্য করে এই শিবিরের আয়োজন কে করেছিলেন, বা এর নেপথ্যে মূল হোতা কারা, তা জানতে পুলিশ তদন্তের জাল বিস্তার করেছে। এখন দেখার বিষয়, আইনি এই লড়াইয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা সংশ্লিষ্টরা কীভাবে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করেন।