বুদবুদ থানার ওসির ডেরায় ইডি! মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে টাকার পাহাড়? কয়লা পাচারে নাম জড়াতেই তোলপাড়

মঙ্গলবার সকাল থেকে সংবাদ শিরোনামে একটাই নাম— মনোরঞ্জন মণ্ডল। বর্তমানে তিনি পূর্ব বর্ধমানের বুদবুদ থানার ওসি (OC)। কিন্তু এই পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধেই এখন উঠেছে কয়লা পাচারের কোটি কোটি টাকা লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ। মঙ্গলবার ভোর থেকেই দুর্গাপুরের অম্বুজা টাউনশিপে তাঁর বিলাসবহুল বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আধিকারিকরা।

মনোরঞ্জন মণ্ডলের এই ‘কীর্তি’ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে তিনি যখন আসানসোলের বারাবনি থানার দায়িত্বে ছিলেন, তখনই তাঁর বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণ ও কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছিল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নের এক বৈঠকে পুলিশের নীচুতলার একাংশের বিরুদ্ধে বালি ও কয়লা পাচারে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া বার্তার পর আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরি মনোরঞ্জনকে সাসপেন্ড করেছিলেন।

সাসপেনশন কাটিয়ে ফিরে সম্প্রতি বুদবুদ থানার ওসির দায়িত্ব পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পাচারের যোগসূত্র কাটেনি। ইডি আধিকারিকদের অনুমান, কয়লা কারবারের কালো টাকা লেনদেনে এই পুলিশ কর্তার বড় ভূমিকা রয়েছে। তল্লাশিতে কী কী নথিপত্র বা কত নগদ উদ্ধার হয়, এখন সেটাই দেখার। পুলিশের পোশাক পরে রক্ষক হয়েও ভক্ষকের ভূমিকা পালনের এই অভিযোগে আবারও অস্বস্তিতে প্রশাসন।