বুথ দখল হলেই ভোট বাতিল! ২০২৬ নির্বাচনে কমিশনের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’, কড়া পাহারায় বাংলা

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নজিরবিহীন কড়াকড়ির পথে হাঁটল ভারতের নির্বাচন কমিশন। অতীতে ভোটের দিন বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের যে অভিযোগ বারবার উঠেছে, তাকে সমূলে বিনাশ করতে এবার ডিজিটাল নজরদারিতেই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা— এবার কোনো বুথে জবরদখল বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে সরাসরি সেই বুথের ভোট বাতিল করা হবে।
কমিশনের ত্রিস্তরীয় নজরদারি ব্যবস্থা: এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রতিটি বুথেই ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং (Webcasting) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অর্থাৎ, দিল্লির নির্বাচন সদন এবং কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে সরাসরি প্রতিটি বুথের ভেতরের পরিস্থিতি লাইভ দেখা যাবে। কোনো প্রার্থীর এজেন্টকে বের করে দেওয়া বা কোনো বহিরাগত বুথে ঢুকলে তা তৎক্ষণাৎ ধরা পড়বে ক্যামেরায়।
গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং: শুধু বুথ নয়, ভোটকর্মীদের গতিবিধি এবং ইভিএম (EVM) বহনের ওপর কড়া নজর রাখতে প্রতিটি সেক্টর অফিসারের গাড়িতে লাগানো থাকছে জিপিএস (GPS) যন্ত্র। ইভিএম নিয়ে কোনো গাড়ি যদি নির্দিষ্ট রুটের বাইরে যায় বা দীর্ঘক্ষণ কোনো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, তবে সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে অ্যালার্ট চলে যাবে। এর ফলে ভোট লুঠ বা ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কঠোর পদক্ষেপ ও ভোট বাতিল: নির্বাচন কমিশন এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। যদি কোনো বুথ থেকে বুথ দখলের অভিযোগ আসে এবং ওয়েবকাস্টিং বা সিসিটিভি ফুটেজে তার প্রমাণ মেলে, তবে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণের (Re-poll) নির্দেশ দিতে কমিশন দ্বিতীয়বার ভাববে না। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও বুথের ভেতরে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী আধিকারিকদের মতে, প্রযুক্তির এই নিশ্ছিদ্র জালে এবার কারচুপির রাস্তা প্রায় বন্ধ। রাজনৈতিক মহলের মতে, কমিশনের এই কঠোর অবস্থান আসন্ন নির্বাচনে সব দলের জন্যই এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।