বুথের ১০০ মিটারে ডামি ইভিএম! জওয়ানদের দেখেই চম্পট তৃণমূল কর্মীদের, তুঙ্গে উত্তেজনা

ভোট চলাকালীন বুথের ঢিল ছোড়া দূরত্বে ডামি ইভিএম নিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠল শাসকদলের বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমানের গলসি বিধানসভা কেন্দ্রের বুদবুদ ব্লকের বড়চাতরা এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত আসরে নামতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার ভোটগ্রহণ চলাকালীন বুথের ১০০ মিটারের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস একটি অস্থায়ী কার্যালয় তৈরি করেছিল। অভিযোগ, সেখানে বসে কয়েকজন তৃণমূল কর্মী একটি ডামি ইভিএম মেশিন নিয়ে ভোটারদের বোঝাচ্ছিলেন কোথায় ভোট দিতে হবে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নির্বাচন কমিশনের কুইক রেসপন্স টিম (QRT)। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের আসতে দেখেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন তৃণমূল কর্মীরা। জওয়ানরা ওই অস্থায়ী কার্যালয় থেকে ডামি ইভিএমটি বাজেয়াপ্ত করেন। তবে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ওই এলাকারই একটি দোকানে বেআইনি জমায়েত হঠিয়ে দেয় কিউআরটি। গলসি একসময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও, ২০১৪ সালের উপ-নির্বাচন থেকে এটি তৃণমূলের দখলে রয়েছে। এবার সেখানে তৃণমূলের অলোককুমার মাজির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বিজেপির রাজু পাত্র এবং সিপিআইএমের মণিমালা দাস।

ডামি ইভিএম উদ্ধারের ঘটনায় শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র। তিনি বলেন, “নকল আর ডুপ্লিকেট করাই তৃণমূলের সংস্কৃতি। ওদের আসল বলে কিছু নেই, এমনকি সরকারটাও আসল নয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী সঠিক কাজ করেছে।” পাল্টা সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী অলোককুমার মাজি। তাঁর দাবি, “কেন্দ্রীয় বাহিনী বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের হেনস্তা করছে। যেখানে আমাদের ভোটার বেশি, সেখানে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। মানুষ ব্যালটেই এর জবাব দেবেন।”