বীরভূমের নলহাটি জংশন, প্ল্যাটফর্ম ছোট হওয়ায় ট্রেন থামে দু’বার!

এটি কোনও গল্প নয়, বীরভূমের নলহাটি জংশনের (Nalhati Junction) বাস্তব চিত্র। এই জংশনে একটি ট্রেনকে যাত্রীদের ওঠানামার জন্য দু’বার থামতে হয়—যা রেলের পরিকাঠামো নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই অদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য এলাকার চা-এর ঠেকগুলিতে হাসাহাসি চলছে। মূলত প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য না বাড়িয়েই ট্রেন দাঁড়ানোর ফলেই এমন সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে:
বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ শাখার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হলো নলহাটি জংশন। এর গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটি সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম নলাটেশ্বরী মন্দিরের প্রবেশদ্বার। পাশাপাশি রয়েছে বৃহৎ পাথর শিল্পাঞ্চল। এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি লোকাল ট্রেন ছাড়া অধিকাংশ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ নেই।
যে লোকাল ট্রেনগুলি চলে, সেগুলিরও নির্দিষ্ট সময় থাকে না। অন্যদিকে, নলহাটি প্ল্যাটফর্মটি এতটাই ছোট যে এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়ালে কিছু কামরা প্ল্যাটফর্মের বাইরে পড়ে থাকে। এর ফলে সেই কামরাগুলির যাত্রীদের ওঠানামায় মারাত্মক অসুবিধা হয়। লাগেজ নিয়ে পাথরের উপর দিয়ে যেতে গিয়ে অনেক যাত্রী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। বিশেষত বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী ও শিশুদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
দীর্ঘদিনের দাবি, মেলেনি সুরাহা:
প্রসঙ্গত, স্টেশনের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন দাবিতে প্রায় তিন বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে নলহাটি নাগরিক মঞ্চ। তারা একাধিকবার লাইনে নেমে ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। প্রতি বছর রেলের জেনারেল ম্যানেজার (GM) পরিদর্শন করে প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধি-সহ সামগ্রিক বিকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কোনও সুরাহা হয়নি।
দু’বার থামার নজিরবিহীন ব্যবস্থা:
যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর জন্যই মঙ্গলবার থেকে এই জংশনে এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি দু’বার করে দাঁড়ানো শুরু করেছে। ট্রেন একবার থামার পর পিছনের কামরার যাত্রীদের জন্য আবার প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে। সাময়িকভাবে এটি যাত্রীদের সুবিধা দিলেও, রেলের এই অস্থায়ী ব্যবস্থা পরিকাঠামোগত ব্যর্থতাকেই তুলে ধরছে। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা অবিলম্বে প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।