ভেগান-বান্ধব তকমা পেল কলকাতা, মাছ-মাংসের শহর এখন নিরামিষ খাবারের সেরা ঠিকানা!

বাঙালি বলতেই লোকে বোঝে মাছ ও আমিষ খাবার—কলকাতার মটন বিরিয়ানি এবং চিকেন চাউমিনের সুনাম রয়েছে বিশ্বজুড়ে। কিন্তু শুনে অবাক হলেও এটাই সত্যি: সেই কলকাতাকেই ‘পেটা ইন্ডিয়া’ (PETA India) সংস্থাটি ২০২৫ সালের সেরা ভেগান-বান্ধব শহর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বীকৃতিস্বরূপ তারা কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিমের হাতে শংসাপত্রও তুলে দিয়েছে।

সমীক্ষায় যা উঠে এল:

পেটা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, তারা গোটা দেশের বিভিন্ন শহরের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছে যে কলকাতায় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি নিরামিষ পদ খাওয়া হয়। পোস্ত, আলু বড়া, চাটনি, ছোলার ডাল, ফুচকা-সহ নানা সুস্বাদু ভেগান-বান্ধব পদের বিক্রি এখানে প্রচুর।

শহরে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার বিক্রির অসংখ্য ছোট-বড় দোকান, হোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। মানুষের ঝোঁক বেড়েছে নিরামিষ কেক এবং আইসক্রিমের প্রতিও। বহু ক্লাউড কিচেন সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার বিক্রি করে দারুণ ব্যবসা করছে।

খাবার ছাড়িয়ে অন্য পরিবর্তন:

শুধু খাদ্য নয়, এই পরিবর্তন এসেছে চামড়ার জিনিসের ক্ষেত্রেও। পশুর চামড়ার পরিবর্তে উদ্ভিদের আঁশ বা ছাল দিয়ে তৈরি ব্যাগ-সহ নানা জিনিসের বিক্রি কলকাতায় বেড়েছে। পেটা চলতি বছরে পশু সচেতনতা প্রচারে একটি দুর্গাপুজোয় প্রদর্শনীও করেছিল। তারা লক্ষ্য করেছে, কলকাতাবাসী ক্রমশ প্রাণী-বান্ধব হয়ে উঠছেন।

রাজনৈতিক রসিকতা:

যদিও কলকাতা পুরনিগম বা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তরফে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়নি, পেটা সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে এই তথ্য তুলে ধরেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে রসিকতার ছলে অনেকেই বলছেন, হয়তো এই আমিষ-প্রধান শহরের মানুষের মন ঘুরছে এবং নিরামিষভোজীদের প্রভাব বাড়ছে।

উল্লেখ্য: ভেগান মানে শুধু নিরামিষ খাবার বোঝায় না। ভেগানরা প্রাণিজাত কোনও খাবার—যেমন দুধ, পনির, মধু—কিছুই খান না। তাঁরা পুরোপুরি শাক-সবজির ওপর নির্ভরশীল। সেই ভেগান সংস্কৃতিতে সেরার শিরোপা পেল কলকাতা।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty