বিহারে মহাজোটে ফাটল! কংগ্রেসকে চাপে রাখতে ২৪৩ আসনে প্রার্থী দেওয়ার হুঁশিয়ারি তেজস্বীর

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহাজোটের শরিকদের মধ্যে টানাপোড়েন তুঙ্গে। জোটের আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, এর মধ্যেই আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব ঘোষণা করেছেন যে, তার দল রাজ্যের ২৪৩টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। মুজাফফরপুরের এক কর্মী সমাবেশে তেজস্বীর এই ঘোষণার পর কংগ্রেস এবং অন্যান্য শরিকদের মধ্যে অস্বস্তি আরও বেড়েছে।

তেজস্বীর হুঙ্কার: “২৪৩ আসনেই লড়ব”

মুজাফফরপুরের কান্তিতে এক জনসভায় বিহারের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব বলেন, “আমরা রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরবই। এটা বুঝতে হবে, তেজস্বী বিহারের ২৪৩টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।” এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি কর্মীদের আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবং মুজাফফরপুর, বোচাহান, গাইঘাট ও কান্তির মতো আসনগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন।

কংগ্রেসের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তেজস্বীর এই ঘোষণা কেবল কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করার কৌশল নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত। মুজাফফরপুরের কান্তি আসনটি বর্তমানে কংগ্রেসের দখলে। জোট হলে স্বাভাবিকভাবেই এই আসন কংগ্রেসের প্রাপ্য, কিন্তু আরজেডি এই আসনটি নিজেদের কাছে রাখতে আগ্রহী। তাই তেজস্বীর এই ঘোষণা কংগ্রেসের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর বিষয়ে সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গেলে বিতর্ক শুরু হয়। এরপর রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতেই তেজস্বী যাদব নিজেকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন। তেজস্বীর “২৪৩ আসন” ঘোষণাটি কংগ্রেসকে আসন বণ্টনের আলোচনায় আরও বেশি চাপে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা

মহাজোটের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছে, যেখানে কংগ্রেস ২৩৪টির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনের দাবিদার। এই পরিস্থিতিতে তেজস্বীর এই ঘোষণা আরজেডি-র শক্তি প্রদর্শনের একটি প্রচেষ্টা এবং দর কষাকষির একটি হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।