চাকরি যাবে নাকি বদলি? রাজ্য সরকারের নতুন বিলে তোলপাড় উচ্চশিক্ষা মহল, বিধানসভাতেই কি আসল খেলা?

রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক কাঠামোতে এক যুগান্তকারী ও চাঞ্চল্যকর পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কর্মী ও আধিকারিকদের বদলির ক্ষেত্রে এবার একটি নির্দিষ্ট ও কঠোর আইনি কাঠামো তৈরি হতে চলেছে। সম্প্রতি কলকাতা গেজেটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। এই নতুন বিলটি সামনে আসার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে তীব্র গুঞ্জন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ২০১৭ সালের পুরোনো ও সংশ্লিষ্ট আইনে একটি সম্পূর্ণ নতুন ১৪এ ধারা যুক্ত করা হতে চলেছে। এই নতুন বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রশাসনিক প্রয়োজনের খাতিরে আচার্য বা চ্যান্সেলর সরাসরি রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিজীবী, শিক্ষক কিংবা কর্মীকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করার একচ্ছত্র ক্ষমতা লাভ করবেন। এর ফলে এতদিন বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে বদলির ক্ষেত্রে যে আইনি শূন্যতা বা জটিলতা ছিল, তার অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন এই বিলে বদলি হওয়া কর্মীদের চাকরির শর্ত ও সুযোগ-সুবিধা সুরক্ষার কথা বলা হলেও, তাদের সামনে রাখা হয়েছে দুটি সুনির্দিষ্ট বিকল্প। বদলি হওয়া কর্মী চাইলে তাঁর মূল বা প্রথম নিযুক্ত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের লিয়েন (lien) বজায় রাখতে পারবেন, অথবা নতুন বদলি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী কাঠামোর সঙ্গে নিজেকে শোষিত করে নিতে পারবেন। পাশাপাশি, জনস্বার্থে বদলি হওয়া এবং পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে লিয়েন না রাখা কর্মীদের ক্ষেত্রে সিনিয়রিটি বা জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার বা পদে তাঁদের প্রাথমিক নিয়োগের তারিখ থেকেই। এছাড়া, ট্রান্সফার গ্র্যান্ট এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী পরিবহণের সুনির্দিষ্ট খরচ পাওয়ার যোগ্যও হবেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, এতদিন ২০১৭ সালের আইনে কলেজগুলির শিক্ষক, গ্রন্থাগারিক ও অশিক্ষক কর্মীদের এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে বদলির বিধান থাকলেও, এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মী বদলির কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না। সেই ঘাটতি মেটাতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। সরকারের যুক্তি, এর ফলে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে মানবসম্পদের আরও বেশি কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হবে। এরই মধ্যে আজ রাজ্য বিধানসভায় একটি বিশেষ অধিবেশন বসার কথা রয়েছে, যেখানে মন্ত্রিসভায় ইতিমধ্যে পাশ হওয়া এই নতুন বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হতে পারে।