“বিসর্জন দিতে পারেনি শত বীরপুরুষও!”-বেনারসের মুখার্জি পরিবারের অলৌকিক দুর্গা পুজোর কাহিনি

সন-তারিখটা ছিল ১৭৬৭ সাল। দিনটি ছিল শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন, বিজয়াদশমী। প্রথা মেনে বারাণসীর মদনপুরার যাদব গোয়ালাদের ডাক পড়েছিল মুখোপাধ্যায় পরিবারের একচালা দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের জন্য। কিন্তু ঘটেছিল এক অলৌকিক ঘটনা—দড়ি দিয়ে শত চেষ্টা করেও বীরপুরুষেরা মাটির এই প্রতিমাটি একচুলও টলাতে পারেননি।

জনশ্রুতি আছে, সেই রাতেই মুখোপাধ্যায় পরিবারের প্রধান কালী প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়-এর স্বপ্নে আবির্ভূতা হন মা দুর্গা। তিনি স্বপ্নাদেশ দেন যে তিনি চিরকাল কাশীর মানুষের সঙ্গে থাকবেন। পরিবারের সদস্যরা সেই মায়ের ইচ্ছাকে শিরোধার্য করে প্রতিমা সেখানেই রেখে দেন। সেই থেকে প্রায় ২৬০ বছর ধরে, প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় একই মাটির প্রতিমা পূজা করা হচ্ছে বারাণসীর মুখার্জি (তৎকালীন মুখোপাধ্যায়) বাড়িতে। এই পুজো ‘পুরানা দুর্গা বাটি’ নামেই সুপ্রসিদ্ধ।

মুখার্জি পরিবারের ৪২ বছর বয়সী সদস্য ইন্দ্রনীল মুখার্জি জানান, “বিজয়াদশমীর দিন বেশিরভাগ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হলেও, আমাদের মা দুর্গা বছরের পর বছর আমাদের সঙ্গে থাকেন। আমরা প্রতিদিন তার যত্ন নিই, পুজো, আরতি এবং প্রসাদ দিই।”

বাংলা টোলায় অবস্থিত ছয় ফুট লম্বা খড়, বাঁশ, পাটের দড়ি এবং মাটি দিয়ে তৈরি এই শতাব্দী প্রাচীন প্রতিমা, যা এএসআই-নিবন্ধিত, কাশী এবং সারা ভারতের ভক্তদের আকর্ষণ করে। শুধু ভক্তরাই নয়, এই ঐতিহাসিক দুর্গা পুজো দেখতে টলিউড অর্থাৎ বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের অনেক সেলিব্রিটিরাও ভিড় জমান।

‘পুরানা দুর্গা বাটি’-এর মূল আকর্ষণ এই প্রতিমা হলেও, এখানে আরও আকর্ষণীয় বস্তু রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো একাদশ শতাব্দীর একটি গ্রানাইট বিষ্ণু মূর্তি (সম্ভাব্য পাল আমলের) এবং ২২টি শিব লিঙ্গ যা পরিবার দাবি করে যে জমিতে বসতি স্থাপনের পরে মাটির নিচ থেকে পাওয়া গেছে। এই বছরও একই প্রতিমায় পূজা হবে, যা ইতিহাস ও ভক্তির এক অপূর্ব মেলবন্ধন।