সমুদ্রের নোনা জলেই হবে এবার ধান চাষ! চীনা বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী আবিষ্কার, কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন তাঁরা?

সমুদ্রের জলকে সেচের কাজে লাগানো অসম্ভব বলে এতদিন মনে করা হলেও, সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দেখিয়েছেন একদল চীনা বিজ্ঞানী। তাঁরা এমন এক বিশেষ ধরনের ধানের বীজ ব্যবহার করে দেখিয়েছেন, যা উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত মাটিতেও শুধু ধান চাষ সম্ভব নয়, বরং তার ফলনও বৃদ্ধি পায়! এই উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন, তার ফলে খাদ্য সুরক্ষাকে আরও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
‘সি ওয়াটার রাইস’— এক অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প
বিশ্বের সকলেই এতদিন জানতেন যে সমুদ্রের উপকূলে নোনা জলে বাদাম জাতীয় কয়েকটি তৈলবীজের চাষ হলেও ধানের মতো কোনো শস্য চাষ সম্ভব ছিল না। কারণ, ধান চাষের জন্য নির্দিষ্ট জলবায়ু, সঠিক জলের ব্যবস্থা, সার এবং যথেষ্ট পরিমাণে চাষযোগ্য জমির দরকার পড়ে। উপযুক্ত পরিমাণে বৃষ্টি এবং সঠিক মাটির মতো অনেকগুলি শর্ত থাকে বলেই ধান কখনওই যেকোনোও জায়গায় জন্মাতে পারে না।
অথচ, চিনের একদল বিজ্ঞানী এই সমস্ত উপযুক্ত পরিবেশের বাইরে গিয়েও নোনা জলে ধান চাষ করে যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছেন। এই বিশেষ ধরনের ধানটি ‘সি ওয়াটার রাইস’ নামে পরিচিত।
২০৩০ সালের লক্ষ্য: ২০০ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান!
এই আবিষ্কার শুধু কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের একটি নতুন ধাপ তাই নয়, এর সামাজিক প্রভাবও সুদূরপ্রসারী। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে এই সি ওয়াটার রাইস চাষ করা সম্ভব হয়েছে।
তাঁদের লক্ষ্য আরও বড়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিশেষ ধরনের ধান প্রায় ২০০ কোটি মানুষের খাদ্যাভাব মেটাতে সক্ষম হবে!
বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করছেন, যুগান্তকারী এই আবিষ্কারের ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাওয়া এবং এর ফলে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো বিশ্বব্যাপী সমস্যার চিরতরে সমাধান হবে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে নতুন করে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল।