বিষ্ণুপুরে উদ্ধার সরকারি ত্রাণের পাহাড়! প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের গুদামে মিলল ত্রিপল-ক্র্যাচ

ভোটের মরসুম ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে এবার সরকারি ত্রাণ চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে। রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তন্ময় ঘোষের মালিকানাধীন একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় সরগরম এলাকা। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রচুর সরকারি ত্রিপল এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত ক্র্যাচ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা।
গত ৪ঠা মে-র পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতি যে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এই ঘটনা তাকে আরও এক ধাপ উসকে দিল। গত কয়েক দিনে রাজ্যে পর পর একাধিক কাউন্সিলরের পদত্যাগ, পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়া কিংবা তৃণমূলের তাবড় নেতা-মন্ত্রীদের ওপর ডিম হামলার মতো একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই অস্থির পরিস্থিতির মাঝেই সরকারি ত্রাণ সামগ্রী লোপাটের ঘটনা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বিষ্ণুপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ঘোষের ব্যক্তিগত গুদামে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী মজুত রাখা ছিল—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এদিন বিজেপি কর্মীরা সেখানে চড়াও হন। গুদামের তালা খুলতেই বেরিয়ে আসে ত্রিপলের পাহাড় এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য ব্যবহৃত ক্র্যাচ। বিজেপির দাবি, এগুলো সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি সাহায্য, যা তৃণমূল নেতা অবৈধভাবে নিজের গুদামে লুকিয়ে রেখেছিলেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গুদামের সামনে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। বিজেপি নেতা-কর্মীরা সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। স্থানীয় মহকুমা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও প্রাক্তন বিধায়কের তরফ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েকমাস ধরে রাজ্যজুড়ে সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে। একাধিক নেতা ও বিধায়কের ঘর থেকে সরকারি ত্রাণের সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা প্রশাসনকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিষ্ণুপুরের ঘটনা সেই তালিকারই যেন সর্বশেষ সংযোজন। রাজ্যে নির্বাচনের পরের এই উত্তাল আবহে, বিরোধী দলগুলো সরকারি ত্রাণ নিয়ে এই দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে।
পুরসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে দলীয় কোন্দল, এই ত্রাণ বিতর্ক নতুন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি ত্রাণ সামগ্রী প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে না পৌঁছে রাজনৈতিক নেতাদের গুদামে পৌঁছে যাচ্ছে। বিষ্ণুপুরের এই ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটন এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এটাই, তদন্তে কী বেরিয়ে আসে এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনের তরফ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।