বিশ্বের আকাশে ভারতের দাপট! আমিরাতের কাছে ‘ব্রহ্মস’ বিক্রির চূড়ান্ত আলোচনায় মোদী সরকার

‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর প্রতিরক্ষা রফতানিতে নতুন পালক যোগ হতে চলেছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের বিখ্যাত সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মস’ (BrahMos) কেনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে মোদী সরকার। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

ব্রহ্মসের বিশেষত্ব ও গুরুত্ব:

  • গতি ও ধ্বংসক্ষমতা: ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই মিসাইল বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলগুলোর অন্যতম। এটি শব্দের তিনগুণ গতিতে (Mach 3) ছুটে গিয়ে শত্রুর লক্ষ্যবস্তুকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে সক্ষম।

  • বহুমুখী ব্যবহার: মাটি, আকাশ বা সমুদ্র—যেকোনো মাধ্যম থেকেই ব্রহ্মস নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনার এটি অন্যতম প্রধান অস্ত্র।

কেন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?

  • কৌশলগত অবস্থান: সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি। তাদের সঙ্গে এই ধরনের অস্ত্র চুক্তি ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে বিশ্বমঞ্চে আরও মজবুত করবে।

  • রফতানি লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ৫ বিলিয়ন ডলার। ফিলিপাইনের পর ইউএই-র মতো দেশ ব্রহ্মস কিনলে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ শুধু সহজই হবে না, ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের বিশ্বাসযোগ্যতাও বহুগুণ বেড়ে যাবে।

  • অন্যান্য দেশের আগ্রহ: ফিলিপাইন ইতিমধ্যে ব্রহ্মস কিনেছে। শোনা যাচ্ছে, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোও এই মিসাইল পেতে ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে।

বিশেষজ্ঞদের মত: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ব্রহ্মস চুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, এটি ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সাফল্যের একটি বড় প্রমাণ। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে ভারতের এই প্রবেশ আগামী দিনে এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতেও ভারতীয় অস্ত্রের চাহিদা বাড়িয়ে দেবে।