বিশ্বজুড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস! ট্রাম্পের ম্যাজিকে থামছে কামানের গর্জন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ঐতিহাসিক বিরতি ঘোষণা

গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এবার এক অভাবনীয় মোড়। বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়ে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ, ৯ মে থেকে শুরু হয়ে আগামী ১১ মে পর্যন্ত এই সাময়িক শান্তি বজায় থাকবে বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে। ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।

ট্রাম্পের তুরুপের তাস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে আসছিলেন যে, তিনি দ্রুত এই যুদ্ধ থামাতে সক্ষম। সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রথম প্রতিফলন দেখা গেল আজ। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই তিন দিন রাশিয়া বা ইউক্রেন— কোনো পক্ষই একে অপরের ওপর আকাশপথে হামলা বা স্থলপথে আক্রমণ চালাবে না। ৯ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত এই ‘সিজফায়ার’ বা যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।

শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ? বিশ্লেষকদের মতে, এই তিন দিনের বিরতি কেবল সাময়িক স্বস্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি আলোচনার একটি মহড়া হতে পারে। ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ যারা দীর্ঘদিন বাঙ্কারে দিন কাটাচ্ছেন, তাদের জন্য এই তিন দিন জীবনদায়ী ওষুধ এবং খাদ্য সরবরাহের বড় সুযোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ক্রেমলিন ও কিয়েভের প্রতিক্রিয়া যদিও মস্কো বা কিয়েভ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো দীর্ঘ বিবৃতি আসেনি, তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণায় দুই পক্ষই মৌখিকভাবে সায় দিয়েছে বলে খবর। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন— এই তিন দিন কি সত্যিই যুদ্ধ থামবে, নাকি এটি বড় কোনো যুদ্ধের প্রস্তুতির আগে একটি কৌশলগত বিরতি মাত্র?

আপাতত গোটা বিশ্বের নজর এখন রণক্ষেত্রের দিকে। ট্রাম্পের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানে পরিণত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy