বিশ্বকাপে চরম ফ্লপ রোনালদো! কঙ্গোর বিরুদ্ধে ড্রয়ের পর সমালোচনার ঝড়

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল পর্তুগাল। শক্তিশালী দল হয়েও কঙ্গোর মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগ করে নিতে বাধ্য হলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোরা। এই ম্যাচে রোনালদোর ফর্ম নিয়ে শুধু পর্তুগাল শিবির নয়, বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
রোনালদোর পরিসংখ্যান ও ব্যর্থতা: কঙ্গোর বিরুদ্ধে গোটা ম্যাচে যেন নিজের ছায়া হয়েই ছিলেন রোনালদো। ২৫টি টাচ, গোলের জন্য মাত্র ৩টি শট এবং বল দখলের লড়াইয়ে জয়ের হার মাত্র একবার—বিশ্বকাপের মঞ্চে রোনালদোর ক্যারিয়ারের অন্যতম খারাপ পারফরম্যান্সগুলোর একটি এটি। এমনকি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলোতে সবচেয়ে কম বল পাওয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। বড় টুর্নামেন্টে টানা ১০টি ম্যাচে গোল না পাওয়ার খরা তাঁর ক্যারিয়ারে এক নজিরবিহীন পরিসংখ্যান।
কী বলছেন রোনালদো? ম্যাচ শেষে সমালোচনার মুখে পড়ে নিজের ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্তুগিজ তারকা লিখেছেন, “শুরুটা যেমন চেয়েছিলাম, তেমনটা হয়নি। তবে কিছুই শেষ হয়ে যায়নি। এখন পরের ম্যাচের দিকে নজর দিচ্ছি।”
কঙ্গোর রূপকথা: পর্তুগালের জন্য হতাশার রাত হলেও, কঙ্গোর কাছে এই ড্র ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে কোনো পয়েন্ট পেল তারা। শক্তিশালী পর্তুগালকে রুখে দিয়ে কঙ্গোর ফুটবলাররা প্রমাণ করে দিলেন যে, তারা লড়াই করতে প্রস্তুত। এই ফলাফল বাকি টুর্নামেন্টের জন্য তাদের আত্মবিশ্বাসকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।
পর্তুগালের আশার আলো: ব্যর্থতার মাঝেও পর্তুগালের জন্য ইতিবাচক দিক হলো পেদ্রো নেতো, হোয়াও নাভাস এবং হোয়াও ক্যান্সেলোর মতো তারকাদের নজরকাড়া পারফরম্যান্স। তবে কোচ কি পরবর্তী ম্যাচে রোনালদোকে বসিয়ে রাখার মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নেবেন? নাকি অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখেই ফের রোনালদোর ওপর বাজি ধরবেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।