বিশ্বকাপ মাঝপথেই শেষ? নেদারল্যান্ডস ম্যাচে গুরুতর চোট পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন শ্রেয়াঙ্কা

ইংল্যান্ডে আয়োজিত মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারতের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকলেও, দলের অন্দরে নেমে এল গভীর উদ্বেগের ছায়া। টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে দুরমুশ করে জয়ের হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে হরমনপ্রীত কৌরের দল। কিন্তু এই ম্যাচেই গুরুতর চোট পেয়ে ছিটকে গেলেন দলের অন্যতম সেরা স্পিনার শ্রেয়াঙ্কা পাতিল।
ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারে। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ফিল্ডিং করার সময় মিড-অন অঞ্চলে বল রুখতে গিয়ে টার্ফে পা পিছলে যান শ্রেয়াঙ্কা। অস্বাভাবিকভাবে গোড়ালির ওপর সমস্ত শরীরের ভার পড়ায় প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন তিনি। সতীর্থরা দ্রুত ছুটে আসলেও চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে, শেষপর্যন্ত স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। মাঠ ছাড়ার সময় হতাশা ও যন্ত্রণায় মুখ ঢেকে কেঁদে ফেলেন তরুণী এই ক্রিকেটার। তাঁর অনুপস্থিতিতে শেফালি বর্মা ওভারের বাকি বলগুলো সম্পন্ন করেন।
উল্লেখ্য, শ্রেয়াঙ্কার ক্যারিয়ারে চোট যেন পিছু ছাড়ছে না। দীর্ঘ ১৪ মাসের বিরতির পর ডব্লিউপিএলে আরসিবির হয়ে মাঠে ফিরেছিলেন তিনি। গত বছরের জুলাই মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচেই আঙুল ভেঙে গিয়েছিল তাঁর। এরপর পায়ের শিন বোন এবং আঙুলের চোট—ক্রমাগত ফিটনেস সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন চোট তাঁর জন্য সত্যিই এক চরম দুর্ভাগ্য।
এদিকে ম্যাচের কথায় এলে, ভারতের পারফরম্যান্স ছিল স্বপ্নের মতো। প্রথমে ব্যাট করে স্মৃতি মন্ধানা (৭৪) ও শেফালি বর্মার (৫৫) অনবদ্য ব্যাটিংয়ের সুবাদে ভারত নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য রাখে। জয়ের জন্য ২১০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রী চারণীর বিধ্বংসী বোলিং (৪/১৯) এবং শেফালির ঘূর্ণি জাদুতে (৩/২০) নেদারল্যান্ডসের ইনিংস মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায়। ৯৫ রানের এই বিশাল জয় ভারতের সেমিফাইনালের পথ অনেকটা সুগম করে দিল।
এখন প্রশ্ন হলো, শ্রেয়াঙ্কার চোট কতটা গভীর? ২১ জুন ম্যানচেস্টারে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে ভারত কি তাঁকে পাবে? মেডিকেল টিমের পর্যবেক্ষণের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। আপাতত বড় জয় পেলেও দলের প্রধান স্পিনারের অনুপস্থিতি ভারতীয় শিবিরের দুশ্চিন্তা যে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।