৫ আগস্ট এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হলো পৃথিবী। ইন্টারন্যাশনাল আর্থ রোটেশন অ্যান্ড রেফারেন্স সিস্টেম সার্ভিস (IERS) এর তথ্য অনুযায়ী, এই দিন পৃথিবী স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য দ্রুত গতিতে আবর্তন করেছে। এর ফলে ২৪ ঘণ্টার একটি দিন প্রায় ১.২৫ থেকে ১.৫ মিলিসেকেন্ড কম হয়েছে, যা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা এর কারণ এবং প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন।
কেন দ্রুত ঘুরছে পৃথিবী?
পৃথিবীর এই দ্রুত ঘূর্ণনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
- চাঁদের প্রভাব: চাঁদ যখন তার কক্ষপথে পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে দূরে থাকে, তখন তার মহাকর্ষীয় প্রভাব কিছুটা কমে যায়। এর ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। ৫ আগস্ট চাঁদের এমন অবস্থান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
- জলবায়ু পরিবর্তন: হিমবাহ গলে যাওয়া এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পৃথিবীর ভরের ওপর প্রভাব ফেলছে। বরফ গলে সমুদ্রে মিশলে পৃথিবীর আকৃতি সামান্য পরিবর্তিত হয়, যা ঘূর্ণনের গতি বাড়াতে পারে।
- ভূমিকম্প ও ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ: বড় ধরনের ভূমিকম্প পৃথিবীর কেন্দ্রকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে ঘূর্ণনের গতিতে পরিবর্তন আসে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০২০ সাল থেকে পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি বেড়েছে এবং গত ৫০ বছরের মধ্যে এই গতি সবচেয়ে বেশি হতে পারে।
দ্রুত ঘূর্ণনের প্রভাব কী?
এই দ্রুত ঘূর্ণন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কোনো প্রভাব ফেলবে না, কারণ ১.৫ মিলিসেকেন্ডের পরিবর্তন খালি চোখে ধরা পড়ে না। তবে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে। জিপিএস এবং স্যাটেলাইটের মতো সংবেদনশীল প্রযুক্তি পারমাণবিক ঘড়ির সঠিক সময়ের ওপর নির্ভরশীল। পৃথিবীর ঘূর্ণন সময়ের সঙ্গে পারমাণবিক ঘড়ির সময় সমন্বয় করার জন্য ‘লিপ সেকেন্ড’ ব্যবহার করা হয়।
১৯৭২ সাল থেকে মোট ২৭ বার লিপ সেকেন্ড যোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পৃথিবী দ্রুত ঘুরতে শুরু করায় বিজ্ঞানীরা ২০২৯ সালে প্রথমবারের মতো ‘ঋণাত্মক লিপ সেকেন্ড’ বা এক সেকেন্ড বিয়োগ করার কথা ভাবছেন। এটি ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত সিস্টেমের সঠিক কার্যকারিতার জন্য জরুরি হতে পারে। নাসা-সহ অন্যান্য মহাকাশ সংস্থাগুলো এই পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আগের রেকর্ড
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ জুলাই পৃথিবী তার ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম ঘূর্ণনের রেকর্ড করেছিল। সেদিন দিনটি স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৬৬ মিলিসেকেন্ড কম ছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, ১ থেকে ২ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর একদিন মাত্র ১৯ ঘণ্টা দীর্ঘ ছিল কারণ তখন চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে ছিল। তবে আধুনিক রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রেকর্ডটিই সবচেয়ে ছোট দিন হিসেবে বিবেচিত।





