‘কবরস্থ ডেড বডি খুঁড়ে বের করেছেন!’ ২১ জুলাইয়ের ফাইল নিয়ে শুভেন্দুকে কেন ধন্যবাদ জানালেন মদন?

বিধানসভায় সোমবার এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল রাজ্য। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ২১ জুলাইয়ের সেই বহুচর্চিত ফাইল বিধানসভায় পেশ করতেই তোলপাড় শুরু হয়। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে চমকপ্রদ মোড়টি আসে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের কথায়। শুভেন্দুর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে তিনি কার্যত নিজের দলের বিরুদ্ধেই সুর চড়ালেন।

শুভেন্দুর প্রশংসায় মদন: ফাইল পেশের পরেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান মদন মিত্র। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই বিধানসভা চির কৃতজ্ঞ থাকবে। কারণ, আপনি একটা কবরস্থ ডেড বডি (শহিদ দিবস সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্ট) মাটির তলা থেকে খুঁড়ে বের করেছেন। যার গন্ধে গোটা পশ্চিমবঙ্গ ভরে যাবে।” মদনের এই মন্তব্যে কার্যত উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা।

চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন: মদন মিত্র এদিন সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ২০১১ সালে পরিবর্তনের পর যে কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তার রিপোর্ট কেন এতদিন প্রকাশ্যে এল না? তিনি বলেন, “কেন চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট বেরোল না, এর জবাব শুধু আপনি (শুভেন্দু) নন, পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি মানুষ জানতে চায়। আপনি হোয়াইট পেপার প্রকাশ করুন।” এমনকি, নিজে সেই সময়ে সাক্ষ্য দিলেও বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেননি বলেও আক্ষেপ করেন মদন।

তৃণমূলের অন্দরে কি ভাঙন? নিজের দলের একাংশের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে মদন মিত্র বলেন, “আমার বন্ধুরা আমায় বলতে দিচ্ছিলেন না। কারণ আমার জামা দেখে আমায় ‘কালো তৃণমূল’ মনে হচ্ছিল তাঁদের। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই, আমি কালো তৃণমূল নই।” তাঁর এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতির অন্দরে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

পটভূমি: ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হলেও, গত ১৫ বছরে সেই রিপোর্ট ধামাচাপা পড়ে ছিল বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

শুভেন্দু অধিকারীর ফাইল প্রকাশ্যে আনা এবং তাতে মদন মিত্রের মতো তৃণমূল বিধায়কের ‘সমর্থন’—এই দুইয়ে মিলে ২১ জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয় কি না।