বিয়ের ৮ মাসের মাথায় রহস্যমৃত্যু নববধূর! BMW-র জন্য পণের চাপেই খুন? গ্রেফতার স্বামী

বিয়ের মাত্র আট মাসের মাথাতে এক নববধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর সদর ব্লকের যমুনাবালি এলাকায়। নিহত গৃহবধূর নাম স্নেহা চক্রবর্তী (২৫)। বাপের বাড়ির পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, বিলাসবহুল বিএমডব্লুু (BMW) মোটরসাইকেল কেনার জন্য মোটা অঙ্কের পণের দাবি করা হচ্ছিল। সেই দাবি মেটাতে না পারায় লাগাতার শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় মৃতার স্বামী রণদীপ জানা এবং শ্বশুর রতন জানাকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ধৃতদের চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

প্রেমের বিয়ে ও বিলাসিতা: পুলিশকর্মী ধ্রুব চক্রবর্তীর মেয়ে স্নেহার সঙ্গে গত বছরের ডিসেম্বরেই মেদিনীপুরের এক ধনী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান রণদীপ জানার সঙ্গে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। লাভ ম্যারেজের মাধ্যমেই তাঁদের সম্পর্ক পরিণতি পেয়েছিল। পরিবার সূত্রে খবর, রণদীপ ও তাঁর বাবা রতন জানার লরি এবং বালির ব্যবসা রয়েছে। বেশ ভালো অবস্থাপন্ন পরিবারেই নতুন জীবন শুরু করেছিলেন স্নেহা।

পণের জন্য লাগাতার চাপ ও ভয়ংকর অভিযোগ: তবে স্নেহার বাপের বাড়ির দাবি, বিয়ের পর থেকেই সুখের বদলে শুরু হয়েছিল অশান্তি। মৃতার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই জামাই রণদীপ ও বেয়াই রতন জানা বিভিন্ন অজুহাতে মেয়েকে নানাভাবে নির্যাতন করতেন। সম্প্রতি একটি দামি বিএমডব্লুু বাইক কেনার জেদ ধরেছিলেন রণদীপ এবং সেই বাইকের জন্য স্নেহার বাবার কাছে টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু স্নেহা তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর অত্যাচারের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার শ্বশুরবাড়ি থেকেই স্নেহার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, স্নেহা নিজেই আত্মঘাতী হয়েছেন। তবে মেয়ের বাবা এই তত্ত্ব পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, স্নেহা আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে নন। পণের টাকা না পেয়ে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই স্বামী ও শ্বশুরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও পুরো বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন শোকস্তব্ধ বাবা।