পুরনো জামাকাপড়ের পার্সেলের আড়ালে মদ পাচার! আহমেদাবাদ পুলিশের জালে ৩ মাথা

‘ড্রাই স্টেট’ বা মদ নিষিদ্ধ রাজ্যে বেআইনি কারবারের এক নতুন ও অভিনব পন্থার পর্দাফাঁস করল আহমেদাবাদ পুলিশ। অনলাইনে বিভিন্ন জনপ্রিয় ডেলিভারি ও লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্মের সুবিধা নিয়ে পুরনো ও ব্যবহৃত কাপড়ের পার্সেলের আড়ালে রাজস্থান থেকে সুকৌশলে মদ পাচার করা হচ্ছিল শহরে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গুজরাট হাউজিং বোর্ড চত্বরের একটি সন্দেহজনক ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। আর সেই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাতে গিয়েই পুলিশকর্মীদের চোখ কপালে ওঠে। ফ্ল্যাটের ভেতর এবং বারান্দায় থরে থরে সাজিয়ে রাখা ছিল বিলিতি মদের বিপুল ভাণ্ডার। এই চাঞ্চল্যকর চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে নিশিত শাহ, জয় পাওয়ার এবং কিষাণ শাহ নামের তিন মূল পাণ্ডাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সীমানার কড়া নাকা চেকিং এবং পুলিশি নজরদারি এড়াতেই এই ধূর্ত ছক কষা হয়েছিল। রাজস্থানের সাঁচোর এলাকা থেকে পুরনো কাপড়ের নামে সিলগালা করা পিচবোর্ডের বাক্স বুক করা হতো ডিজিটাল লজিস্টিকস সার্ভিসের মাধ্যমে। সেই কাপড়ের স্তূপের ঠিক নিচে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হতো সিল করা মদের বোতল। গন্তব্যে অর্থাৎ ওই ফ্ল্যাটে পার্সেল পৌঁছানোর পর সেটিকে প্রধান মজুতখানা বা গুদাম হিসেবে ব্যবহার করত ধৃতরা। সেখানে বাক্স খুলে মদ আলাদা করে সাজানো হতো এবং স্থানীয় খুচরা গ্রাহকদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হতো। এমনকি পাড়ায় পাড়ায় সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে মদের হোম ডেলিভারি দেওয়ার কাজে সাধারণ ও ইলেকট্রিক স্কুটার ব্যবহার করা হতো।

অভিযানের সময় ওই ফ্ল্যাট থেকে আনুমানিক ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের মোট ২,৭৩৬টি ভারতীয় তৈরি বিদেশি মদের বোতল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এছাড়াও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন, প্যাকিংয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত তিনটি দু’চাকা গাড়িও আটক করা হয়েছে। সবমিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মোট বাজারমূল্য প্রায় ৭ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, রাজস্থানের ওমপ্রকাশ বিষ্ণোই নামের এক কুখ্যাত সরবরাহকারীর কাছ থেকে এই চালানের মালপত্র আনা হয়েছিল এবং স্থানীয় কিছু ক্রেতা ও ডিলারের কাছে তা সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। এই ডিজিটাল সাপ্লাই চেনের আড়ালে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে কঠোর গুজরাট নিষেধাজ্ঞা আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, পলাতক অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজেও জোরদার তল্লাশি চলছে।