জেএনইউ কাণ্ডে তুলকালাম! ১১ ছাত্রীর যৌন হেনস্থার অভিযোগে বরখাস্ত কংগ্রেস সাংসদ অধ্যাপক

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) অধ্যাপক তথা কংগ্রেস লোকসভা সাংসদ অ্যাঙ্গোমচা বিমল আকোইজামের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির (ইন্টারনাল কমিটি) বিস্ফোরক রিপোর্টের ভিত্তিতে দায়ের করা এই এফআইআরে একাধিক গুরুতর অভিযোগের বিবরণ উঠে এসেছে। ১১ জন মহিলা পড়ুয়ার করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত স্তরে অনুচিত আচরণ, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং অনভিপ্রেত শারীরিক স্পর্শের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
সিএনএন-নিউজ১৮-এর হাতে আসা ওই এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ কমিটি একাধিক অভিযোগকারিণীর জবানবন্দি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং অভিযুক্ত অধ্যাপকের বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেছে। কমিটির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, শিক্ষক ও পড়ুয়ার মধ্যকার পেশাগত সীমারেখা বারবার লঙ্ঘন করা হয়েছে, যার ফলে ক্যাম্পাসের অন্দরে ছাত্রীদের জন্য এক ভয় ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৭৫ এবং ৭৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির অংশ হিসেবে জেএনইউ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই অধ্যাপক আকোইজামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে।
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উইচ হান্ট’ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত অধ্যাপক। জেএনইউ উপাচার্যের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় নিয়মবিধি মানা হয়নি এবং তাঁকে পাঠানো ইমেলের সংখ্যা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। অন্যদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব কেন নীরব, সেই প্রশ্ন তুলে দিল্লির কংগ্রেস সদর দফতরের বাইরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বিজেপির মহিলা মোর্চা।