সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর হুঙ্কার! লোকসভার বিরোধী নেতার এক ঘোষণায় তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের একপ্রস্ত বোমা ফাটালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর দাবি করে বসলেন কংগ্রেস সাংসদ। রাহুল সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন যে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের নিয়মিত বার্তা তাঁর কাছে এসে পৌঁছাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওই নির্বাচন কমিশনারকে তিনি ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার বার্তা পাঠিয়েছেন বলেও প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে এক নতুন ও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিল। সোমবারের ওই প্রেস মিটে শুধু নির্বাচন কমিশনকেই নিশানা করেননি রাহুল, বরং তাঁর দাবির পরিধি ছড়িয়ে পড়েছিল খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের অন্দরমহলে। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সুরেই তিনি দাবি করেন যে বর্তমান নরেন্দ্র মহোদয় সরকারের ভিতরের সমস্ত গোপন খবর এখন তাঁর হাতের মুঠোয়।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে টানতেও পিছপা হননি রাহুল। চাঞ্চল্যকর সুরে তিনি বলেন, ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরের প্রায় ২০০ জন পদস্থ অফিসার তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। রাহুলের এই বিস্ফোরক বিবৃতির মূল তাৎপর্য ছিল এটাই বোঝানো যে, শাসক শিবিরের অন্দরেও তাঁর বিশ্বস্ত সোর্স বা খবরাখবর পৌঁছে দেওয়ার লোক রয়েছে, যারা সরকারের সমস্ত নীতি ও সিদ্ধান্তের গোপনীয়তা ফাঁস করে দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্ক, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলনের মাঝেই রাহুলের এই মুখ খোলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যখন বিরোধীরা ইসিআই-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, ঠিক তখনই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে সরাসরি এমন বার্তা পাঠানোর কথা প্রকাশ্যে এনে রাহুল বুঝিয়ে দিলেন যে এই লড়াই কেবল রাজনৈতিক ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেপথ্যে গভস্তর কৌশল ও প্রশাসনিক তথ্য জোগাড়ের এক বৃহত্তর জাল বিছানো রয়েছে। তাঁর এই ডিনামাইট সদৃশ মন্তব্যের পর থেকে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক পারদ এক লাফে বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে এবং শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকেও এর তীব্র প্রতিক্রিয়া আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।