“৪৮ ঘণ্টার সময়সীমাও দিল না পুলিশ!”-সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে টিম

ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড বিতর্ক এবং পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির জেরে এবার তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোডের বাড়িতে পৌঁছে গেল কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দল। সোমবার দুপুরে শেকসপিয়র সরণি থানার পুলিশ নোটিস হাতে তাঁর বাসভবনে উপস্থিত হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই পুলিশের এই তৎপরতা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল? সম্প্রতি ক্যামাক স্ট্রিট এলাকায় অভিষেকের কার্যালয়ের সামনে একটি বিলবোর্ড সরাতে গিয়ে পুরসভার কর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পুরকর্মীদের সঙ্গে সাংসদের অনুগামীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় মোট ৩টি এফআইআর (FIR) রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এর আগে একবার অভিষেককে তলব করা হলে তিনি হাজিরা দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদেও অংশ নিয়েছিলেন।

গত শনিবারই দিল্লি থেকে কলকাতা ফেরেন অভিষেক। এরপর রবিবারই তাঁর হাতে নতুন করে নোটিস দিয়ে যায় শেকসপিয়র সরণি থানার পুলিশ। সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ তাঁকে থানায় হাজির দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কী দাবি করেছিলেন অভিষেক? এত কম সময়ের নোটিসে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে শেকসপিয়র সরণি থানাকে ইমেল করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছিলেন, “আমি সংসদের একজন নির্বাচিত সদস্য এবং আমার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকে। রবিবার নোটিস দিয়ে সোমবারই সকাল সকাল তলব করা হয়েছে, যা একতরফা, স্বেচ্ছাচারী ও অযৌক্তিক। এই কম সময়ের মধ্যে হাজিরা দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।” থানায় হাজিরার জন্য তাঁর অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, পুলিশের তদন্তে তিনি সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ইমেলে স্পষ্ট জানান।

তবে পুলিশ সেই ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়ার আগেই সোমবার দুপুরে সোজা তাঁর বাড়িতে হাজির হয়। প্রায় ৫০ মিনিট অপেক্ষা করার পর বাড়ির ভেতরে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে নোটিস তুলে দেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে পুলিশের এই লাগাতার পদক্ষেপে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।