সৌদির কিং খালিদ এয়ারপোর্টে হুথির ড্রোন ও মিসাইল হামলা! যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জারি জরুরি অবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যে ফের ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ! শনিবার রিয়াধের ব্যস্ত কিং খালিদ এয়ারপোর্টে হুথি বিদ্রোহীদের জোড়া মিসাইল ও ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল সৌদি আরব। সৌদি স্টেট টেলিভিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নৃশংস হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকসহ অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৩৮০ জন মানুষ। এর রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার ফের দফায় দফায় হামলা চালায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? শনিবার দুপুর তিনটে নাগাদ আচমকাই রিয়াধের কিং খালিদ এয়ারপোর্টে হানা দেয় হুথি বাহিনী। বর্তমানে উমরাহ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক পুণ্যার্থী সৌদিতে সমবেত হয়েছেন। ঠিক সেই সময়েই বিমানবন্দর চত্বরে এই হামলা চালানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, যাত্রীরা যখন বিমানে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখনই হঠাৎ বিকট শব্দে উজ্জ্বল কমলা রঙের আগুনের শিখা দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে বিমানবন্দরের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং হুড়োহুড়ি ও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে।

প্রাথমিক ধাক্কা সামলানোর পর শনিবারের এই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার ফের সৌদির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় হুথি বিদ্রোহীরা। রবিবারের হামলায় নতুন করে একজনের মৃত্যু এবং ১১ জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে। হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, শুধু রিয়াধ নয়, সৌদির দাম্মাম এয়ারপোর্ট এবং সৌদি আরামকোর দুটি প্রধান খনিজ তেলের শোধনাগারেও সফলভাবে হামলা চালিয়েছে তারা।

সৌদি ডিফেন্সের প্রতিরোধ ও জরুরি অবস্থা: সৌদি এয়ার ডিফেন্সের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলের দিকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা হুথির একাধিক ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল মাঝপথেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে লাগাতার এই আক্রমণের জেরে সোমবার সকাল পর্যন্ত সৌদিতে উচ্চ সতর্কতা ও জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে হুথিদের হামলায় মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কেন এই হামলা? গত মাসেই লোহিত সাগরের তীরবর্তী কৌশলগত এলাকায় একাধিক জায়গা দখল করে নেয় হুথি বাহিনী। এর জবাবে ইয়েমেনে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে পাল্টা হামলা চালায় সৌদি আরব। সেই হামলার বদলা নিতেই রিয়াধসহ সৌদির জনবহুল এলাকায় এই ধ্বংসলীলা চালিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। ঘটনাটিকে চরম ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে সৌদি প্রশাসন। এই হামলার জেরে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে।