আরজি কর আবহে জুনিয়র চিকিৎসকদের হাত ধরে যে ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতির কথা প্রকাশ্যে এসেছিল, তা কি এবার গ্রাস করেছে বিনোদন জগতকেও? অন্তত প্রথম সারির প্রযোজক পীযূষ সাহার সাম্প্রতিক বিস্ফোরক মন্তব্য সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তৃণমূল জমানায় টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে চলা দাদাগিরি এবং ভয়ের পরিবেশ নিয়ে এবার জনসমক্ষে মুখ খুললেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে টলিউডে কাজ করলেও এতকাল এই বিষয়ে সেভাবে সরব হননি কেউ। তবে এবার সরাসরি ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে সরব হয়ে পীযূষ সাহা দাবি করেছেন, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন এক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে কথা বলার সাহস হারিয়েছেন অনেকেই। তাঁর মতে, শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকা এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তির অঙ্গুলিহেলনেই বর্তমানে নির্ধারিত হচ্ছে স্টুডিও পাড়ার ভাগ্য।
প্রযোজকের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কথা মতো না চললে বা তাঁদের মর্জিতে সায় না দিলে কাজ হারানো থেকে শুরু করে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি নতুন প্রতিভা বা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাওয়া প্রযোজকদেরও কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। পীযূষবাবুর এই সাহসী পদক্ষেপের পর টলিপাড়ার অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন।
বিরোধীদের দাবি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের মতো বিনোদন জগতকেও কবজা করেছে শাসক দলের সিন্ডিকেট রাজ। যদিও তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে প্রযোজক পীযূষ সাহার এই মন্তব্য যে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্দরে লুকানো ক্ষোভকে আগ্নেয়গিরির মতো বাইরে নিয়ে এল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন দেখার, এই প্রতিবাদের পর ইন্ডাস্ট্রির বাকিরা এই ‘হুমকি সংস্কৃতি’র বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস দেখান কি না।





