বিয়ের পিঁড়িতে বসতে নারাজ ছিলেন সিয়া? প্রেমিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আড়াল করতেই কি হবু স্বামীকে হত্যা?

পুণের ২৫ বছর বয়সি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে লোহাগড় দুর্গের পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে হত্যার ঘটনায় সামনে এল ভয়াবহ সব তথ্য। পুলিশি জেরার মুখে মূল অভিযুক্ত তথা কেতনের বাগদত্তা, ২০ বছরের সিয়া গোয়েল বিস্ফোরক দাবি করেছে। সে জানিয়েছে, কেতনের সঙ্গে এই বিয়েতে তার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিল না। সিয়ার দাবি, সে বারবার এনগেজমেন্ট ভেঙে দিতে চাইলেও, কেতন তাতে কর্ণপাত করেননি। কিন্তু পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এক অন্ধকারতর সত্য—প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আড়াল করতেই এই ‘পরিকল্পিত খুন’।
পুলিশ সূত্রে খবর, সিয়া এবং চেতন চৌধুরী মিলে ঠান্ডা মাথায় কেতনকে সরানোর ছক কষেছিল। সমাজ ও পরিবারের চাপের মুখে সিয়া বুঝতে পেরেছিল যে, প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার আর কোনো সহজ পথ নেই। তাই এই নৃশংস পথ বেছে নেয় সে। কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতে এনগেজমেন্টের পর থেকেই সিয়ার আচরণে খটকা ছিল। কেতন নিজেই পরিবারকে সিয়ার অতীত ও তার ফোনে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি, প্রেমিকের নাম হিসেবে চেতন চৌধুরীর কথা কেতন আগেই সন্দেহ করেছিলেন। কিন্তু সিয়ার পরিবারের জোরাজুরিতে বিয়ের তোড়জোড় চলছিল দ্রুতগতিতে।
১৮ জুন সিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে কেতনকে পাহাড়ের খাদে ঠেলে ফেলে সিয়া। প্রাথমিকভাবে সে পুলিশকে জানায়, ছবি তুলতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে কেতন নিচে পড়ে যান। কিন্তু সিয়ার বয়ানে অসঙ্গতি দেখে পুলিশ তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তদন্তে জানা গেছে, এটা ছিল সিয়ার দ্বিতীয় প্রয়াস। গত ১৪ জুন সিয়া একই দুর্গে কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কেতন ঝোপ আঁকড়ে প্রাণে বেঁচে যান। সেই সময় সিয়া নাকি ‘সাপ দেখার’ ভুয়ো গল্প বানিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়েছিলেন।
প্ল্যান এ ব্যর্থ হওয়ার পরই সিয়া ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী দ্বিতীয়বার এমন ভয়াবহ ছক কষেন। ১৮ জুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রেমিক চেতন আগেই দুর্গের নির্জন স্থানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। পরে সিয়া ও চেতন মিলে কেতনকে প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেয়। বর্তমান জেরায় সিয়া স্বীকার করেছে যে সে কেতনের সঙ্গে এই সম্পর্ক টানতে চায়নি। ঘটনার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত মৃতের পরিবার। খুনের পরিকল্পনায় প্রেমিকের সরাসরি উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ায় সিয়া ও চেতনের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুণে গ্রামীণ পুলিশ।