‘কুণালদার ডিমে ভীষণ অ্যালার্জি!’ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক সজল ঘোষের তীব্র খোঁচা

বিধানসভার অন্দরে রাজনৈতিক তরজা সবসময়ই নতুন নয়, তবে বৃহস্পতিবার সজল ঘোষের মন্তব্য যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেল। ভাষণ চলাকালীন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের এই মন্তব্যে কার্যত উত্তাল হয়ে উঠল বিধানসভা চত্বর। তাঁর এই বিস্ফোরক মেজাজ এবং খোঁচাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
এদিন বিধানসভায় নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে সজল ঘোষ সরাসরি আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষকে। তবে রাজনৈতিক ইস্যুর বাইরে গিয়ে সজল ঘোষ কুণালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “কুণালদার ডিমে ভীষণ অ্যালার্জি। অথচ ইদানীং উনি ডিম ছাড়া কিছুই খেতে চাইছেন না।” সজলের এই মন্তব্য মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে রাজনীতির অন্দরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সজল ঘোষের এই তির্যক মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে ডিমের বিতর্ক। বর্তমান সময়ে রাজনীতির আঙিনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘ডিম’ নিয়ে যে কটাক্ষ ও পাল্টা কটাক্ষ চলছে, সজল ঘোষ সেই সূত্রটিকেই কাজে লাগিয়েছেন।
বিধানসভার পবিত্র কক্ষে দাঁড়িয়ে এই ধরণের মন্তব্য কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী শিবিরের অনেকে। বিশেষ করে যখন রাজ্য বিধানসভায় জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা, তখন এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণের পথে কেন গেলেন সজল ঘোষ, সেই নিয়েও চলছে চর্চা। উল্লেখ্য, সজল ঘোষ বরাবরই তার স্পষ্টবক্তা এবং আক্রমণাত্মক মেজাজের জন্য পরিচিত। বিধানসভার অন্দরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করা হোক বা ব্যক্তিগত খোঁচা, সজল ঘোষ সবসময়ই প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করেন।
সজল ঘোষের এই মন্তব্যের পর কুণাল ঘোষের তরফে এখনও কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সজল ঘোষের এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হতেই তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তৃণমূল কর্মীরা মনে করছেন, সজল ঘোষ অশালীন ভাষায় রাজনৈতিক সৌজন্যকে লঙ্ঘন করেছেন। উল্টোদিকে, বিজেপি বিধায়কদের একাংশ সজল ঘোষের এই ‘ব্যক্তিগত খোঁচা’কে রাজনৈতিক ‘হিউমার’ হিসেবেই দেখছেন।
উল্লেখ্য, সজল ঘোষের এই মন্তব্যের সময় বিধানসভার অন্দরে হইচই পড়ে যায়। অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও সজল ঘোষ তার বক্তব্যের ধারা অব্যাহত রাখেন। তিনি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, তৃণমূল মুখপাত্রের যেকোনো কর্মকাণ্ডকে বিজেপি বিধায়করা যে তীক্ষ্ণ নজরদারিতে রাখছেন, এই মন্তব্য তারই বহিঃপ্রকাশ। আগামী দিনে এই ব্যক্তিগত আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো সংঘাতের সূচনা করে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আপাতত, সজল ঘোষের এই ‘ডিম’ মন্তব্যই এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।