বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন না ২৬-এর ভাইরাল নেতা! কেন প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ?

কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাতে বরাবরই খবরের শিরোনামে থাকে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন এখন তুঙ্গে। এই তীব্র রাজনৈতিক টানাপড়েনের মাঝেই প্রকাশ্যে এল সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের ব্যক্তিগত জীবনের এক অজানা অধ্যায়। দেশের রাজনৈতিক ময়দানে তরুণ তুর্কি হিসেবে পরিচিত ২৬ বছরের এই নেতার কাছে বিয়ের একাধিক প্রস্তাব এলেও, তিনি আপাতত সেসব থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তথা তরুণ নেতার এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তাঁর মা অনিতা দিপকে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, গত প্রায় দু’বছর ধরে ছেলের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিয়ের নানা প্রস্তাব আসছে। কিন্তু নিজের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করা এবং নিজের পায়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিয়ের কথা ভাবতেই রাজি নন। মায়ের স্পষ্ট বক্তব্য, বিয়ের অসংখ্য প্রস্তাব এলেও অভিজিৎ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগে তিনি পড়াশোনা শেষ করবেন এবং জীবনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজে পুরোপুরি আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হবেন।

এদিকে ব্যক্তিগত জীবনের এই খবরের মাঝেই শারীরিক অসুস্থতাকে জয় করে রাজনৈতিক ময়দানে ফের পুরোদমে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে টাইফয়েড থেকে সবেমাত্র সুস্থ হয়ে উঠছেন এই তরুণ নেতা। তবে মারাত্মক অসুস্থতার বিছানায় থেকেও তিনি ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে থাকেননি। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করে অভিজিৎ তীব্র অভিযোগ করেছেন যে, সরকারের তরফ থেকে বারবার নানাবিধ আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি যদি বদলায় এবং এই দমনপীড়ন চললে তাঁরা ফের একবার দেশজুড়ে বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে দীর্ঘ ৩৬ দিনের একটানা অবস্থান আন্দোলন সাফল্যের সঙ্গে শেষ করেছিল সিজেপি। দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে পালিত সেই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছিল যে, কেন্দ্র তাদের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল দাবিগুলি মেনে নিয়েছে। সেই তালিকায় অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী সমস্ত ছাত্র-যুবদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস।

তবে কেন্দ্র ও সংগঠনের মধ্যকার সেই সমঝোতা এবং চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। চলতি সপ্তাহের সোমবার সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও একবার অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি জানানো হয় যে, অবিলম্বে গ্রেফতার হওয়া সমস্ত আন্দোলনকারীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, সমস্ত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত আশ্বাস দিতে হবে। নির্দিষ্ট এই দাবিগুলি সময়সীমার মধ্যে পূরণ না হলে তাঁরা আবারও দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু করার কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে মঙ্গলবার সিজেপি এক ধাপ এগিয়ে দেশজুড়ে আরও এক নতুন দফার বৃহত্তর আন্দোলনের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করে। সংগঠনের তরফ থেকে তীব্র অভিযোগ করা হয়েছে যে, এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনও ধরনের লিখিত প্রতিশ্রুতি না দেওয়ার জন্য কেন্দ্র অত্যন্ত সুকৌশলে সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশকে স্রেফ একটি আইনি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেছেন যে, আজকের আলোচনায় সরকারি প্রতিনিধিরা নাকি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। কিন্তু সংগঠনের কড়া অভিযোগ, এই আইনি মারপ্যাঁচের আড়ালে সরকার মূলত দেশের যুবসমাজকে দেওয়া তাদের সমস্ত পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সুকৌশলে পিছু হঠতে চাইছে।

সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সরকারের তরফ থেকে পূর্ণ দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই নতুন আন্দোলনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত থেকে এক ইঞ্চিও পিছিয়ে আসবে না।