বিয়ের পরই স্ত্রীকে সন্দেহ! অনলাইনে ‘কুড়ুল-কন্ডোম’ অর্ডার কেন? ডিটেকটিভ লাগাতেই ফাঁস হলো নববধূর ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা

বিয়ের পর স্ত্রীর আচরণে সন্দেহ হওয়াটাই শেষ পর্যন্ত এক যুবকের প্রাণ বাঁচাল। অনলাইনে কুড়ুল ও কন্ডোম অর্ডারের কারণ জানতে গিয়েই উত্তরাখণ্ডের এক যুবক তাঁর সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর পরকীয়া ও খুনের ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করেন।
সন্দেহ ঘনীভূত: কুড়ুল-কন্ডোম অর্ডার
উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা শুভম নামের এক যুবক তাঁর সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ করতে শুরু করেন। কিন্তু সেই সন্দেহ আরও গাঢ় হয় যখন তিনি জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী অনলাইনে কুড়ুল ও কন্ডোম অর্ডার করেছেন। এরপরই শুভম দেরি না করে একজন ডিক্টেটিভ ভাড়া করেন এবং স্ত্রীর উপর নজর রাখার নির্দেশ দেন।
হোটেলের ঘরে ফাঁস হলো কেচ্ছা
ডিক্টেটিভ দিন কয়েক পরেই শুভমের স্ত্রীর পিছু নিয়ে তপোবন নামের এক হোটেলে পৌঁছন। সেখানেই ফাঁস হয় নববধূর ‘কেচ্ছা’। জানা যায়, বিয়ের পরেও ওই নববধূ নিয়মিত ওই হোটেলে এসে এক যুবকের সঙ্গে চুপিচুপি দেখা করতেন।
বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা শুরু হলে নববধূ স্বীকার করেন, তিনি আর শুভমের সঙ্গে থাকতে চান না, বরং নতুন প্রেমিকের সঙ্গেই জীবন কাটাতে চান। হোটেলের মধ্যেই শোরগোল পড়ে যায়। অনেকেরই সন্দেহ, প্রেমিকের সঙ্গে উদ্দাম যৌনতার জন্য কন্ডোম এবং স্বামীকে খুনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই কুড়ুল অর্ডার করেছিলেন ওই নববধূ।
বিয়ের মাস কয়েক পরেই স্ত্রীর এমন কাণ্ডে শুভমের পরিবারের মাথায় হাত। তবে কোনোমতে শুভমের প্রাণ বেঁচে যাওয়ায় আপাতত তাঁরা স্বস্তিতে।
পরকীয়ার বলি স্বামী: কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন, দশ মাস পর বাড়ির উঠোন থেকে উদ্ধার হলো ব্যক্তির কঙ্কাল
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ঘটল আরও একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পিসি (স্ত্রী) এবং ভাইপোর মধ্যে অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতে পেরেই নৃশংস পরিণতির শিকার হলেন এক প্রৌঢ়। পথের কাঁটা স্বামীকে সরাতে দুজনে মিলেই খুনের পরিকল্পনা করে।
খুনের পরিকল্পনা: মাদক ও কুড়ুল
নিহত ব্যক্তির নাম শিববীর সিং (৫০)। নিখোঁজ হওয়ার দশ মাস পর অবশেষে বাড়ির উঠোন খুঁড়ে তাঁর কঙ্কাল উদ্ধার করল পুলিশ। শিববীরের মা সাবিত্রী দেবীর সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর পুত্রবধূ লক্ষ্মী এবং লক্ষ্মীর ভাইপো অমিত সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
দীর্ঘ জেরায় দু’জনেই স্বীকার করে, তারা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিল এবং দু’জনে মিলেই শিববীরকে খুন করে। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের জন্য প্রথমে স্ত্রী লক্ষ্মী মাদক মেশানো চা খাইয়ে শিববীরকে অজ্ঞান করেন। এরপর ভাইপো অমিত কুড়ুল দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে খুন করে। শিববীরের মৃত্যু নিশ্চিত করতে লক্ষ্মীও ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করেন।
দশ মাস লুকানোর চেষ্টা, অবশেষে কঙ্কাল উদ্ধার
খুনের পর দেহ বাড়ির পিছনের জমিতে পুঁতে দিয়েছিল তারা। দশ মাস ধরে খুনের ঘটনা লুকানোর জন্য অভিযুক্তরা নানা গল্প ফেঁদেছিল। অবশেষে পুলিশের টানা জেরায় দু’জনে ভেঙে পড়ে। মাটি খুঁড়ে কঙ্কালটি এবং শিববীরের লকেট উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা গেছে, ভাইপো অমিতের সঙ্গে লক্ষ্মীর অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন শিববীর, যা নিয়ে সংসারে নিত্যদিন অশান্তি হতো। বর্তমানে অভিযুক্ত স্ত্রী লক্ষ্মী ও তাঁর ভাইপো অমিত সিংকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।