বিমানে জল চাইলে যাত্রীকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলল ক্রুরা! ভিয়েটজেটের অমানবিক আচরণে তুলকালাপ!

বিমানে ভ্রমণের সময় যাত্রীরা সাধারণত ন্যূনতম সাহায্য এবং ভালো আচরণ আশা করেন। কিন্তু একবার ভাবুন তো, যদি আপনার বয়স্ক মায়ের সময়মতো ওষুধ খাওয়ার জন্য শুধু এক চুমুক জলের প্রয়োজন হয় এবং সাহায্য করার পরিবর্তে বিমান সংস্থার কর্মীরা আপনাকে এক চরম মিথ্যাবাদী বলে অভিযুক্ত করেন, তবে আপনার মানসিক অবস্থা কেমন হবে? যদুপ্রিয়ম মেহতা নামের এক যাত্রী সম্প্রতি ভিয়েটজেটের (VietJet) একটি ফ্লাইটে ঠিক এমনই এক মর্মান্তিক ও বিরক্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। এই অমানবিক ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটদুনিয়াকে দুটি স্পষ্ট শিবিরে বিভক্ত করে দিয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে যাত্রী যদুপ্রিয়ম মেহতা জানান যে ফ্লাইট ওড়ার পরপরই তাঁর অসুস্থ ও বয়স্ক মায়ের জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। এই মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি কেবিন ক্রুদের কাছে এক গ্লাস জল চেয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, এটি এমন এক অতি সাধারণ অনুরোধ যা যে কোনো বিমান সংস্থা সহজেই মেনে নেবে। কিন্তু এরপর কেবিন ক্রুরা যা করলেন, তা সবকিছুর সীমা ছাড়িয়ে যায়। ক্রুরা শুধু জল দিতেই স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেননি, বরং বিনামূল্যে জল হাতিয়ে নেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে ওই যাত্রী ও তাঁর মা মিথ্যা কথা বলছেন বলেও অত্যন্ত অপমানজনক অভিযোগ তোলেন।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওটিতে এক ক্রু সদস্যকে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যের সঙ্গে যাত্রীকে বলতে স্পষ্ট শোনা যায়, “আপনি নিশ্চয়ই আমার সাথে মিথ্যা বলছেন!” চরম হতাশা ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে যাত্রী উত্তর দেন, “আমি আমার অসুস্থ মায়ের ওষুধের মতো গুরুতর বিষয়ের ব্যাপারে আপনার সাথে কেনই বা মিথ্যা বলব?” পরিস্থিতি তখন আরও জটিল ও অপমানজনক মোড় নেয় যখন ওই ক্রু সদস্য একটি সম্পূর্ণ অদ্ভুত ও উদ্ভট শর্ত চাপিয়ে দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, জল পেতে হলে আগে তাঁদের ব্যাগের ওষুধ বের করে প্রমাণ হিসেবে দেখাতে হবে। যাত্রী এই অযৌক্তিক নিয়মের তীব্র প্রতিবাদ করলে ক্রু যুক্তি দেখান যে অনেকেই বিনামূল্যে জল পাওয়ার জন্য এমন অজুহাত দিয়ে থাকেন।
ভিয়েটজেটের এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অসম্মানজনক আচরণে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে যদুপ্রিয়ম জনগণকে ভবিষ্যতে এই এয়ারলাইন্সে ভ্রমণের আগে দুবার চিন্তা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই ভিডিওটি ইন্টারনেটে আসার পর নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন যে বিমান সংস্থাটি বাজেট এয়ারলাইন হোক কিংবা অন্য কিছু, একজন অসুস্থ বৃদ্ধাকে ওষুধের জন্য এক ফোঁটা জল না দিয়ে উল্টে এমন অভদ্র ও অমানবিক আচরণ করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে, কিছু ব্যবহারকারী যুক্তি দিয়েছেন যে বাজেট এয়ারলাইনগুলো কম খরচে পরিষেবা দেয় এবং তারা বিনামূল্যে জল সরবরাহ করতে বাধ্য নয়। সব মিলিয়ে এই ঘটনা বিমানযাত্রার নিরাপত্তা ও মানবিকতা নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে।